বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাঝেই এবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকদের মনে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কেন এই মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা?জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।ভর্তুকির চাপ: আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাত থেকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।উৎপাদন খরচ: আমদানিকৃত এলএনজি (LNG) এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।কত বাড়তে পারে দাম?যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে:বিদ্যুৎ: খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।গ্যাস: বিশেষ করে শিল্প-কারখানা এবং বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আবাসিক চুলায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিপাকে শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকবিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন খাতে। শিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার ফলে বাজারে আবার দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।রাজধানীর এক গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, “এমনিতেই চাল-ডাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছি, তার ওপর যদি বিদ্যুৎ আর গ্যাসের বিল বাড়ে, তবে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”বিইআরসি ও সরকারের অবস্থানবাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পেলে গণশুনানি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুট করে দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমানো এবং অপচয় রোধে কঠোর হওয়া উচিত।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগজ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস কাজে লাগিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো দরকার।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন দাম কবে থেকে কার্যকর হতে পারে। Jabara News 24 এই বিষয়ে প্রতিটি মুহূর্তের খবরের ওপর নজর রাখছে।উপসংহারবিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হলে সেটি দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চেয়ে আছেন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

Leave a comment