All posts by Jabara News 24

খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তান কূটনীতি

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্কখালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় হ্যান্ডশেক করেছেন। মে ২০২৫ সালে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।বাংলাদেশ সংসদে ঐতিহাসিক মুহূর্তবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের একটি অপেক্ষা কক্ষে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর হেঁটে আয়াজ সাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং হ্যান্ডশেক করেন।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লেখেন, “পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।”আয়াজ সাদিকের বর্ণনাপাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বুধবার রাতে সাদিক এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে বলেন, “তিনি আমার কাছে হেঁটে এসে হ্যালো বললেন, যখন আমি দাঁড়ালাম, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এবং হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘মাননীয়, আমি জানি আপনি কে এবং পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'”সাদিক আরও জানান, জয়শঙ্কর প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারপর তার কাছে আসেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্কর জানতেন যে ক্যামেরা রয়েছে এবং তার আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল।পাকিস্তানের প্রেস বিবৃতিপাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সচিবালয় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করেন। এই মিথস্ক্রিয়ার সময়, ডা. এস জয়শঙ্কর স্পিকারের কাছে নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন যে তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, পাহালগাম হামলার পর থেকে পাকিস্তান ক্রমাগত সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়ে আসছে, যার মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং কথিত মিথ্যা ফ্ল্যাগ পাহালগাম ঘটনার যৌথ তদন্তের প্রস্তাবও রয়েছে।ভারতের প্রতিক্রিয়া: “শুধু সৌজন্য”ভারতীয় কর্মকর্তারা এই সাক্ষাতকে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছিল একটি শোক অনুষ্ঠানে সাধারণ শিষ্টাচার।ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই সাধারণ সৌজন্যকে অতিরঞ্জিত করে কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারত জানিয়েছে যে এই সাক্ষাতের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব নেই।ভারত বলেছে, একটি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মোড় দেওয়া অনুচিত। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সংলাপের কথা বলে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন।

মে ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যা অপারেশন সিন্দুর নামে পরিচিত।এই ঘটনার পর থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে অপরের সাথে প্রকাশ্যে হ্যান্ডশেক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুষ্ঠানেও তারা পরস্পরকে এড়িয়ে চলতেন।ক্রিকেট কূটনীতিও ব্যর্থরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের পুরুষ, মহিলা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান দলও ভারতে খেলতে অস্বীকার করে।এই পটভূমিতে জয়শঙ্করের হ্যান্ডশেক অনেকের কাছে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাকিস্তানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াপাকিস্তানি বিশ্লেষকরা এই সাক্ষাতকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সায়েদ আল জাজিরাকে বলেছেন, “জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া নতুন বছরের জন্য একটি স্বাগতযোগ্য উন্নয়ন বলে মনে করি।”তিনি বলেন, “সম্পর্কের মৌলিক স্বাভাবিকতা যেখানে কর্মকর্তাদের সম্মান দেওয়া হয় এবং হ্যান্ডশেক করা হয়, এটি ন্যূনতম যা দুর্ভাগ্যবশত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল।”পাকিস্তানি গণমাধ্যম এই হ্যান্ডশেককে ভারত-পাকিস্তান সংলাপের একটি ভালো সূচক হিসেবে তুলে ধরেছে।ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়াভারতীয় ভাষ্যকাররা এই মিথস্ক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। কেউ কেউ মনে করেন এটি পাকিস্তানকে ভুল সংকেত দিতে পারে। তবে অনেকেই একমত যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহতএই হ্যান্ডশেকের পাশাপাশি, নিয়মিত আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে পারমাণবিক স্থাপনা এবং বন্দীদের তালিকা প্রদান করেছে, যা একটি প্রচলিত কূটনৈতিক অনুশীলন।২০২৬ সালে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা?বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্যান্ডশেক সম্ভবত তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক অগ্রগতি আনবে না, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে হিমায়িত সম্পর্কে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত দিতে পারে।যদিও দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত রয়েছে – কাশ্মীর সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ, এবং সীমান্ত সংঘর্ষ – তবুও মৌলিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার পুনর্নির্মাণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।বাংলাদেশের ভূমিকাখালেদা জিয়ার জানাজা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ প্রদান করেছে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা মিলিত হতে পেরেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ছবি প্রকাশ করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের ভূমিকা তুলে ধরেছে।মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রচারে আগ্রহী, এবং এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির আশাদক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তান শান্তি চান। একটি ছোট হ্যান্ডশেক হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পরিবর্তন করবে না, তবে এটি দেখায় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?এখন প্রশ্ন হলো, এই হ্যান্ডশেকের পরবর্তী কী হবে? দুই দেশ কি আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করবে? নাকি এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হতে পারে। তবে এই ধরনের ছোট কূটনৈতিক আচরণ ভবিষ্যতে বড় সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।উপসংহারঢাকায় জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের হ্যান্ডশেক ২০২৬ সালের শুরুতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে সবচেয়ে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে পারে।দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হ্যান্ডশেক হয়তো একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু কখনও কখনও দীর্ঘ যাত্রা ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২,৫৮২ প্রার্থী ও চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 রাজনীতি ডেস্কগণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো।২,৫৮২ প্রার্থীর মহাসমর: মনোনয়ন জমা শেষ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশের ৩০০টি আসনে মোট ২,৫৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ঢাকা বিভাগে। মজার ব্যাপার হলো, রবিবার পর্যন্ত মাত্র ১৬৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও সোমবার শেষ দিনে অধিকাংশ প্রার্থী তাদের কাগজপত্র জমা দেন।মনোনয়ন যাচাই চলছে: ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া আজ ৪ জানুয়ারি (রবিবার) শেষ হবে। রিটার্নিং অফিসাররা প্রতিটি মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখছেন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।নির্বাচন সময়সূচি এক নজরেনির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ১১ ডিসেম্বর টেলিভিশনে ভাষণে নির্বাচনের সম্পূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো:মনোনয়নপত্র জমা: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (শেষ)মনোনয়ন যাচাই: ৩০ ডিসেম্বর – ৪ জানুয়ারি ২০২৬আপিল দাখিল: ৫ – ৯ জানুয়ারি ২০২৬আপিল নিষ্পত্তি: ১২ – ১৮ জানুয়ারিপ্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি (শেষ দিন)চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: ২১ জানুয়ারিপ্রতীক বরাদ্দ: ২২ জানুয়ারিপ্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারিপ্রচারণা শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আপিল প্রক্রিয়া শুরুমনোনয়ন যাচাইয়ে যারা বাদ পড়বেন বা অন্যদের মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি থাকবে, তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ স্থাপন করেছে ১০টি অঞ্চল (আট বিভাগ এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুর অঞ্চল) থেকে আপিল গ্রহণের জন্য। কমিশন ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিলের নিষ্পত্তি করবে।নারী প্রার্থীর ব্যাপক বৃদ্ধিএবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিশেষত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি থেকে অনেক নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

যে দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেবিএনপি – প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীবেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বিএনপি চারটি আসনে কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না: সিলেট-৫, নীলফামারী-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪। এই আসনগুলোতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রার্থী দিবে।জামায়াতে ইসলামী – নতুন জোটজামায়াতে ইসলামী ২৮ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সাথে নির্বাচনী জোট ঘোষণা করেছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, জামায়াতের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রার্থী নতুন, যাদের আগে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা নেই।ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) – নতুন শক্তিজুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া এনসিপি সংবিধান প্রণয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের অনানুষ্ঠানিক স্লোগান: “এবার জনগণ চায়, সংবিধান পরিষদ নির্বাচন” এবং “বাংলাদেশের সমাধান, নতুন সংবিধান”।এনসিপি ৬ নভেম্বর থেকে প্রথম দল হিসেবে মনোনয়ন ফরম ইশু করে। শ্রমিক-কৃষক এবং জুলাই বিপ্লবে আহত প্রতিবাদকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ ছাড় রাখা হয়। দৈনিক যুগান্তর জানিয়েছে, এনসিপির প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী দলের সদস্য নন।আওয়ামী লীগ অনুপস্থিতটানা চারবার নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দল নিষিদ্ধের আওতায় রয়েছে।কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বয়কটবঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।জুলাই সনদ গণভোট: ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তনির্বাচনের সাথে সাথে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনঃসুবিবন্যাসের লক্ষ্যে মূল সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা।গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের, আর নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা-কালো। উভয় ব্যালট একটি মাত্র ব্যালট বক্সে ফেলা হবে।নির্বাচনী প্রস্তুতিভোটার ও কেন্দ্রনির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রায় ১২.৭৬ কোটি ভোটারের জন্য ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২,৪৪,৭৩৯টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।ভোট গ্রহণের সময়এবার ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ঘণ্টা বেশি। কারণ ভোটারদের নির্বাচন এবং গণভোট উভয়ে ভোট দিতে হবে।প্রবাসীদের ভোটপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাক ভোটের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২,৯৭,০০০ প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। তাদের ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম না থেকে শুধু দল ও স্বতন্ত্র প্রতীক থাকবে। ভোট শেষ হওয়ার আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের ব্যালট পৌঁছাতে হবে।নতুন নিয়মএবার সব প্রার্থীকে অথবা তাদের প্রস্তাবক বা সমর্থককে ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী প্রচারণা পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগএবার কমিশন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছে – দুই বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), তিন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা) এবং ৬৪ জেলা জেলা উপায়ুক্ত।লাখো কর্মকর্তা – প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার – নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎসময়সূচি ঘোষণার সাথে সাথে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গেছে। উপদেষ্টা এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রচারণার জন্য সরকারি সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকার এমন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন বা উদ্বোধন করতে পারবে না যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সময়সূচি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাবলিক স্থান থেকে পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলতে।প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানপ্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার ১৩তম জাতীয় নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ বলে উল্লেখ করেন এবং জোর দেন যে এটি অবশ্যই সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে হবে।তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন নতুন ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা একটি আধুনিক, ন্যায়বিচারপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে সফল হব।”প্রত্যাশা ও উদ্বেগরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান লড়াই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।এই ভোট দেশের গণতান্ত্রিক গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা শক্তিশালীকরণ প্রচারণার প্রধান বিষয় হবে।আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকজাতিসংঘ থেকে কমনওয়েলথ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিয়োগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তারা কারচুপি রোধে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের উপর জোর দিচ্ছেন।কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?সাধারণত প্রতি পাঁচ বছরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের মাত্র দুই বছর পরই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কারণ ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার উৎখাত হয়।২০২৪ সালের নির্বাচন রেকর্ড কম ভোটার উপস্থিতি এবং বিতর্কিত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ২০২৬ সালের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাচ্যালেঞ্জ:স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাসহিংসতা ও কারচুপি প্রতিরোধসব দলের জন্য সমান সুযোগআওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচারসম্ভাবনা:গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধারঅর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাআন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিনতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানউপসংহার১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “আমি সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করতে।”এই নির্বাচন শুধু সরকার নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

IPL 2026: BCCI-র নির্দেশে মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ এর আগে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড BCCI-র সরাসরি নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে BCCI-র সরাসরি নির্দেশ


শনিবার সকালে BCCI সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে BCCI কেকেআরকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইলে বিকল্প খেলোয়াড়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।”


যদিও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কারণ উল্লেখ করেননি, তবে “সাম্প্রতিক পরিস্থিতি” বলতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনাকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৯.২০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল গত ডিসেম্বরে আইপিএল মিনি অকশনে কেকেআর মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনেছিল, যা তার বেস প্রাইস ২ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে তুমুল বিডিং যুদ্ধের পর তাকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়। এটি ছিল আইপিএল ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ মূল্য।


মুস্তাফিজ ছিলেন আইপিএল ২০২৬ অকশনে একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড়, যাকে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছিল। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপ মুস্তাফিজকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।বিজেপি

নেতা কৌস্তভ বাগচি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার কলকাতায় ম্যাচ খেলতে চায়, আমরা তা হতে দিব না। শাহরুখ খানকেও কলকাতায় ঢুকতে দেব না।”
হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকে “দেশদ্রোহী” বলে আখ্যায়িত করেন এবং মুস্তাফিজকে স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।
গত মাসে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এরপরই মুস্তাফিজের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়। কেকেআর-এর বিবৃতি
শনিবার সন্ধ্যায় কেকেআর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করে যে তারা BCCI-র নির্দেশ মেনে মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে যে BCCI/IPL, লিগের নিয়ন্ত্রক হিসেবে, আসন্ন আইপিএল মৌসুমের আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং পরামর্শের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আইপিএল নিয়ম অনুযায়ী BCCI কলকাতা নাইট রাইডার্সকে একজন বিকল্প খেলোয়াড় নিতে অনুমতি দেবে এবং যথাসময়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।”মুস্তাফিজের প্রতিক্রিয়া স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর মুস্তাফিজুর রহমান BDcrictime-কে বলেছেন, “যখন তোমাকে বাদ দেওয়া হয়, আর কী-ই বা করতে পারো?”বর্তমানে

তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (BPL) রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এ বিষয়ে শীঘ্রই বিবৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইপিএল নিয়ম ও ক্ষতিপূরণ আইপিএল নিয়ম অনুযায়ী, অকশনের পর শুধুমাত্র আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল, BCCI অথবা খেলোয়াড় নিজে চাইলেই চুক্তি বাতিল করতে পারেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজে থেকে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দিতে পারে না। এই পরিস্থিতিকে “ফোর্স ম্যাজিউর” ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে খেলোয়াড় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণে চুক্তি বাতিল হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি সাধারণত সম্পূর্ণ অকশন মূল্য ফেরত পায়। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, কেকেআর সম্ভবত পুরো ৯.২০ কোটি টাকা ফেরত পাবে, যা তাদের বাজেটে ফিরিয়ে দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় কিনতে সাহায্য করবে। কেকেআর-এর বোলিং আক্রমণে প্রভাব মুস্তাফিজের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া কেকেআরের বোলিং ডিপার্টমেন্টে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশেষত ডেথ ওভারে তার দক্ষতার জন্য তাকে কেনা হয়েছিল। আইপিএল ক্যারিয়ারে মুস্তাফিজ ৬৫টি উইকেট নিয়েছেন ২৮.৪৪ গড়ে এবং ৮.১৩ ইকোনমি রেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৩৬০টির বেশি উইকেট নিয়েছেন। T20 ক্যারিয়ারে ৩১৫ ম্যাচে তার ৪০২ উইকেট রয়েছে। কাকে নেবে কেকেআর?
কেকেআর এখন বিকল্প পেসার খুঁজছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা সম্ভাব্যভাবে নিম্নলিখিত খেলোয়াড়দের টার্গেট করতে পারে:জেসন

বেহরেনডর্ফ (অস্ট্রেলিয়া) – অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার টি নাটারাজান (ভারত) – ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট অ্যাডাম মিল্নে (নিউজিল্যান্ড) – দ্রুতগতির পেসার ওয়াইন ফেল্পস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) – আক্রমণাত্মক ফাস্ট বোলার T20 বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে প্রশ্ন এই ঘটনার পর T20 বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্যায়ে কলকাতায় তিনটি এবং মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে । বাংলাদেশ

ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, “আইসিসি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, হোস্ট ভারত। যদি কারো সাথে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে আমাদের আইসিসির সাথে কথা বলতে হবে।”
ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ
মজার ব্যাপার হলো, BCCI-র এই সিদ্ধান্তের ঠিক আগের দিন BCB ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে, যেখানে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশ সফরে যাবে তিন ওডিআই এবং তিনটি T20I খেলতে। এই সিরিজ মূলত ২০২৫ সালে হওয়ার কথা থাকলেও পরে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
BCCI-র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি নেতা সংগীত সিং সোম বলেছেন, “শাহরুখ খান বুঝে গেছেন সনাতনীদের বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।”
তবে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক এবং সাবেক ক্রিকেটার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। একজন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার বলেছেন, “রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়।”
উপসংহার
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা দেখাচ্ছে কীভাবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইশু ক্রিকেটের মতো খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার এটি একটি প্রত্যক্ষ ফলাফল।
এই ঘটনা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতে আইপিএলে খেলার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্কেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 প্রতিবেদকবিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।মৃত্যুর মুহূর্তে পরিবার ও নেতৃবৃন্দমৃত্যুর সময় হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ভাই শামীম ইসকান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সব আত্মীয়স্বজন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।মেডিকেল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দও তখন উপস্থিত ছিলেন। ফজরের নামাজের ঠিক পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দীর্ঘ রোগভোগের শেষেবেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার রাতে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়ে এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার বয়স এবং সামগ্রিকভাবে খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে একসঙ্গে একাধিক চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছিল না।গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী: এক ঐতিহাসিক যাত্রা১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীই নন, বিশ্বের প্রথম নারী যিনি একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছেন।মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভকালে তিনি কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন এবং ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ।১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার জীবন বদলে যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দলীয় নেতাদের আহ্বানে তিনি বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।তিনবার প্রধানমন্ত্রীনব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন:প্রথম মেয়াদ: ১৯৯১-১৯৯৬দ্বিতীয় মেয়াদ: ১৯৯৬ (স্বল্প সময়)তৃতীয় মেয়াদ: ২০০১-২০০৬তার শাসনামলে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার হয়। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।চড়াই-উতরাইয়ের রাজনৈতিক জীবনদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং অসংখ্য চড়াই-উৎরাই পার করেছেন। তবে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সর্বদা অবিচল।২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তিনি আইনি জটিলতার মধ্যে ছিলেন। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অবমুক্ত করা হয়।VVIP ঘোষণা ও বিশেষ নিরাপত্তা২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সরকার তাকে VVIP ঘোষণা করে এবং তার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। তার শারীরিক অবস্থা তখন থেকেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে ছিল।রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়াবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন মহান নেত্রীকে হারালো।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শোক জানিয়েছেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মহান আল্লাহ তার ওপর রহম করুন এবং তাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু তাকে বাংলাদেশের আপসহীন কিংবদন্তি নেত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তার সাহসী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারবিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তারা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে ২০ বছরের মধ্যে দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান হন।আল জাজিরা, রয়টার্স, এএফপিসহ বিশ্বের প্রধান গণমাধ্যমগুলো তার মৃত্যু সংবাদ প্রধান শিরোনামে প্রচার করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢেউফেসবুক, টুইটার (এক্স) সহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ঢেউ বইছে। সর্বসাধারণ জনগণ তাদের নিজেদের প্রোফাইলে তার ছবি শেয়ার করে শোক প্রকাশ করছেন এবং মাগফিরাতের দোয়া করছেন।জানাজার সময়সূচিমরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানিয়েছে।দলের নেতারা জানিয়েছেন, যথাযথ মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। দেশবাসী এবং দলের লাখো নেতা-কর্মী তাদের প্রিয় নেত্রীর শেষ দেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।একটি যুগের অবসানবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটল। একজন গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া এই নারী তার অদম্য সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।তার রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।শেষকথাবাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সরকার প্রধান, গণতন্ত্রের সংগ্রামী সৈনিক বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে সমগ্র জাতি।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মহান আল্লাহ তার রূহের মাগফিরাত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

নিউইয়র্কে তুষার ঝড়: হাজারো ফ্লাইট বাতিল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নিউইয়র্ক, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24
ক্রিসমাসের পর ছুটির দিনগুলোতে আমেরিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী তুষার ঝড় আঘাত হেনেছে, যা নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় তুষারপাত ঘটিয়েছে।
তুষারপাতের পরিমাণ
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ৪.৩ ইঞ্চি তুষার জমেছে, যা ২০২২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। কানেকটিকাটে ৮ ইঞ্চির বেশি এবং হার্টউইক, নিউইয়র্কে ১১.৫ ইঞ্চি তুষার রেকর্ড করা হয়েছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়
শনিবার সকাল পর্যন্ত ৬৩৭টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৮৯২টি বিলম্বিত হয়েছে। জেএফকে, লাগার্দিয়া এবং নেওয়ার্ক বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেএফকে বিমানবন্দরে গড়ে ২ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট ফ্লাইট বিলম্বিত হচ্ছে। রবিবার বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ভ্রমণ দিবস হওয়ার কথা, যেখানে ২.৮৬ মিলিয়ন যাত্রী প্রত্যাশিত।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
নিউ জার্সি এবং নিউইয়র্কের কিছু অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা ৫০ মিলিয়নের বেশি আমেরিকানকে প্রভাবিত করছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল এবং নিউ জার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভানিয়ার কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাস্তায় বিপজ্জনক অবস্থা
তুষার ঝড় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র ছিল। প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি তুষারপাত হচ্ছিল, যা রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়ে নিরাপদ ভ্রমণ প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস “ব্ল্যাক আইস” নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে—রাস্তায় অদৃশ্য বরফের স্তর যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রাস্তা পিচ্ছিল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা পর্যটক সারাহ ম্যাথিউস এবং আরও অনেকে বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। এক যাত্রী ড্যানিয়েল সারমোন জানান, তিনি জেএফকে বিমানবন্দরে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানতে পারেন তার পরবর্তী ফ্লাইট ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৬টায়।
সিটি প্রস্তুতি
নিউইয়র্ক সিটির কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই রাস্তায় লবণ ছিটিয়ে এবং স্নো-প্লাও প্রস্তুত রেখেছিল। মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, “নিউইয়র্কবাসীদের ছুটির দিন উদযাপনের পাশাপাশি বিপজ্জনক ভ্রমণ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকা উচিত।”
পরবর্তী সতর্কতা
রবিবার আবারও শৈত্য ও বরফের আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রিজিং রেইন (বরফ-ঝরা বৃষ্টি) বিশেষত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি যাতায়াত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাপমাত্রা রবিবার শূন্যের নিচে থাকবে, তবে সোমবার ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে, যা পিচ্ছিল রাস্তার সমস্যা দূর করবে।
Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার

দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনায় ভারতীয় হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

নয়াদিল্লি-ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি নাগরিকদের রুম দিতে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা এতটাই কঠোর যে চিকিৎসা ভিসায় আসা রোগীদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিলিগুড়ি, মালদা ও দার্জিলিংয়ে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি, মালদা এবং দার্জিলিং জেলার হোটেল মালিক সমিতিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রেটার সিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ জানান, সংস্থার নির্বাহী কমিটির ভোটে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, “আমাদের ৯৭ শতাংশ সদস্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।”
সিলিগুড়ির প্রায় ৩০০টি হোটেল এবং মালদা ও দার্জিলিংয়ের ১৮০টির বেশি হোটেল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। হোটেলগুলোর সামনে “বয়কট বাংলাদেশ” লেখা পোস্টার টাঙানো হয়েছে।
চিকিৎসা ভিসাধারীদেরও ছাড় নেই
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা এবং শিক্ষা ভিসাধারীদের ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। মালদা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী জানান, সংস্থার সব সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশিদের রুম বরাদ্দ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিলিগুড়ির জংশন এলাকার এক হোটেল ম্যানেজার দিলীপ মল্লিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের দেশের স্বার্থই সবার আগে। ব্যবসার চেয়ে জাতীয় মর্যাদা বড়।”
ত্রিপুরাতেও অনুরূপ পদক্ষেপ
ত্রিপুরার অল ত্রিপুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিও (এটিএইচআরওএ) ২ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
সমিতির সম্পাদক ভাস্কর চক্রবর্তী জানান, “২ ডিসেম্বরের আগে চেক-ইন করা বাংলাদেশি নাগরিকরা থাকতে পারবেন, তবে নতুন বুকিং নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র জটিল চিকিৎসার জন্য যথাযথ ডকুমেন্টসহ কেউ এলে তাকে রুম দেওয়া হতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আরও কঠোর দাবি
শুধু হোটেল নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সিলিগুড়ির ব্যবসায়ী সুজন দাস বলেন, “আমরা চাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমস্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হোক। পরিবহন, হোটেল, পণ্য বিক্রয় এমনকি চিকিৎসা সুবিধাও বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া বন্ধ করা উচিত।”
স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স এই হোটেল মালিক সমিতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
হোটেল মালিকরা এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন:
১. সংখ্যালঘু নির্যাতন: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা।
২. ভারতীয় পতাকা অসম্মান: বাংলাদেশে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অসম্মানের অভিযোগ এবং ভারতবিরোধী মনোভাব প্রদর্শন।
৩. চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার।
৪. দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড: বাংলাদেশে একজন হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যা ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
৫. রাজনৈতিক অস্থিরতা: বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতবিরোধী বক্তব্য।
বাংলাদেশের পাল্টা পদক্ষেপ
এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে নয়াদিল্লি ও আগরতলায় কনস্যুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের সামনেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
পর্যটন ও চিকিৎসা খাতে প্রভাব
সিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এবং প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক এখানে আসেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
গত কয়েকদিনে মাত্র ১০ জন বাংলাদেশি সিলিগুড়িতে এসেছিলেন, প্রধানত চিকিৎসা বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে। এখন তাদেরও হোটেল পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসা পর্যটন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি জটিল চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
জাতীয় সরকারের অবস্থান
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখনও এই স্থানীয় হোটেল মালিকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বহিরাঙ্গন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থা
বৈধ ভারতীয় ভিসা থাকলেও বাংলাদেশিরা এখন সিলিগুড়ি শহরে প্রবেশ করতে পারলেও হোটেল বা স্থানীয় পরিবহন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সেবাদানকারীরা সক্রিয়ভাবে ব্যবসা প্রত্যাখ্যান করছেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নতুন নীতিতে শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের জন্য আগের ছাড়ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের সম্মিলিত বয়কটকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ নাগরিক ও রোগীদের ভোগান্তির শিকার হওয়া উচিত নয়।
সিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব
সিলিগুড়ি করিডোর, যা “চিকেনস নেক” নামেও পরিচিত, ভারতীয় মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সাথে সংযুক্ত করে। এর কৌশলগত গুরুত্ব একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি সংবেদনশীল বিষয় করে তোলে।
উপসংহার
এই নিষেধাজ্ঞা দেখাচ্ছে কীভাবে কূটনৈতিক উত্তেজনা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের তৃণমূল পর্যায়ের বয়কট দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা: কী হচ্ছে?
চিকিৎসা পর্যটনে বাংলাদেশি নির্ভরতা: বিকল্প কী?
সংখ্যালঘু সুরক্ষা: দুই দেশের দায়িত্ব
Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশে তারেক রহমান: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-২০২ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়।
আবেগঘন মুহূর্ত বিমানবন্দরে
বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা সকাল থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও দেশে ফিরেছেন।
বিমানবন্দরে নামার পর আবেগাপ্লুত তারেক রহমান মাতৃভূমির মাটি স্পর্শ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফেসবুকে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের সাথে সাথে তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!”
সিলেট হয়ে ঢাকায়
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) ছেড়ে আসা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিশেষভাবে প্রস্তুত এই ফ্লাইটে তারেক রহমানের জন্য A1 সিট বরাদ্দ করা হয়েছিল। উচ্চপদস্থ যাত্রী থাকার কারণে বিমান পরিচালনায় বিশেষ সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
লক্ষ জনতার ঢল রাজধানীতে
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঢাকায় এসেছেন তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে। বিশেষ ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে নেতা-কর্মীরা রাজধানীতে ভিড় করেছেন।
পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় বিশাল মঞ্চ তৈরি করে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ মানুষ সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ – বিশেষ বাসে যাত্রা
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান বিশেষভাবে প্রস্তুত করা লাল রঙের একটি বাসে করে সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন। বাসটির গায়ে লেখা “সবার আগে বাংলাদেশ” – যা দলের মূল শ্লোগান।
জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে নামে পরিচিত রাস্তা ধরে বাসটি এগিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
পূর্বাচল মঞ্চে ঐতিহাসিক ভাষণ
পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছে তারেক রহমান লক্ষ জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মায়ের সাথে সাক্ষাৎ
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে। ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের এই মিলন হবে অত্যন্ত আবেগঘন। তাই বিমানবন্দর ও এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি জায়গা থেকে সংবর্ধনার স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার
তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো তার প্রত্যাবর্তনের খবর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে।
আল জাজিরার শিরোনাম ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা। রয়টার্স তাকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচনের আগে তার এই প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে।
১৭ বছরের ইতিহাস
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় আটক হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে চলে যান।
সে বছরের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে আসার পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায় তার। একের পর এক মামলায় জর্জরিত হন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি নেতারা বলছেন, তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনে জয়ের পথ সুগম করবে।
লন্ডনে ১৭ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছিলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো।”
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে টার্মিনালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সম্ভাব্য যানজটের কথা মাথায় রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে থেকেও নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনতার প্রতিক্রিয়া
“মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে”, “বীরের বেশে তারেক রহমান, আসবে এবার বাংলাদেশে” – এমন শত শত শ্লোগানে মুখরিত ছিল রাজধানী। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের হয়েছে। রাস্তায় মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে—জুলুম কখনো চিরস্থায়ী হয় না, আর মজলুমের জয় অনিবার্য।”
এখন তিনি থাকবেন কোথায়?
তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বলে জানা গেছে। এই বাসার পাশেই ‘ফিরোজা’ বাসভবন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক বছর ধরে থাকছেন।
পরবর্তী কর্মসূচি
বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে তারেক রহমানের ব্যাপক বৈঠক হবে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
দলের নেতারা বলছেন, শীঘ্রই তিনি দেশব্যাপী সফরে যাবেন এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
লন্ডনে আলোচনা সভায় তিনি ৩১ দফা পরিকল্পনা এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে তার রূপরেখা দিয়েছেন।
উপসংহার
১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে এবং আসন্ন নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখবে – তা নিয়ে এখন সবার দৃষ্টি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক, বলেছেন তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের উন্নয়নে এই প্রত্যাবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
•আরও পড়ুন:
•তারেক রহমানের আগমনে পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশ
•আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরা
•খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের আবেগঘন সাক্ষাৎ
•Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার

হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ: যা জানলে জীবন বাঁচাতে পারে — Jabara News 24

হার্ট অ্যাটাক এখন শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়—বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যেও এই ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটে না; এর আগে শরীর বেশ কিছু সতর্ক সংকেত পাঠায়। এসব লক্ষণ আগেভাগে চিনে ব্যবস্থা নিতে পারলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।🔥 হার্ট অ্যাটাকের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ (Jabara News 24 স্বাস্থ্য ডেস্ক)১) বুকে চাপ বা জ্বালা অনুভববুকের মাঝখানে বা বাম পাশে চাপ, ভারী লাগা বা জ্বালা—যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় বা বারবার ফিরে আসে।২) শ্বাসকষ্টবিশেষ করে বিশ্রামে থাকলেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।৩) বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়ানোব্যথা শুধু বুকে নয়—হাত, কাঁধ, ঘাড়, পিঠ বা চোয়ালেও ছড়াতে পারে।৪) অস্বাভাবিক ঘামঠান্ডা ঘাম বা হঠাৎ ঘেমে যাওয়া—যা সাধারণ ঘামের মতো নয়।৫) বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তিঅনেকেই হার্ট অ্যাটাকের আগে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির মতো অনুভব করেন।৬) মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগাহঠাৎ মাথা হালকা লাগা বা দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হওয়া।৭) অস্বাভাবিক ক্লান্তিকোনো কাজ না করেও অতিরিক্ত ক্লান্তি—বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।৮) দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনহৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা অনিয়মিতভাবে ধুকপুক করা।৯) বুকের ডান পাশে ব্যথাঅনেকেই ভুল করে ভাবেন হার্ট অ্যাটাক শুধু বাম পাশে ব্যথা দেয়—ডান পাশেও হতে পারে।১০) উদ্বেগ বা অজানা ভয়অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাকের আগে অকারণে ভয় বা অস্থিরতা অনুভব করেন।

🛑 এই লক্ষণগুলো দেখলে কী করবেন — Jabara News 24 পরামর্শদেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিনরোগীকে আরামদায়ক অবস্থানে রাখুনশ্বাস বন্ধ হলে CPR দিতে হতে পারেনিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালোদ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন

হার্ট অ্যাটাক, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, হৃদরোগ, স্বাস্থ্য সংবাদ, Jabara News 24, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট

Jabara News 24 — দেশের খবর, বিশ্বের খবর, সব খবর এক ঠিকানায়।

Jabara News 24 হলো একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর দ্রুত ও সঠিকভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, প্রযুক্তি এবং লাইফস্টাইলসহ সব ধরনের সংবাদ পরিবেশন করি।সত্য, নির্ভুলতা এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। পাঠকদের আস্থা অর্জনকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আধুনিক ডিজিটাল যুগে দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি আমরা তথ্যের মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।Jabara News 24 — সত্যের পথে, সংবাদে নির্ভুল।