Category Archives: আন্তর্জাতিক

মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান: নতুন কার্যক্রমের প্রভাব

মিনেসোটা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযান হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ICE ও ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে যখন হোয়াইট হাউস থেকে নতুন করে একজন বিশেষ সমন্বয়ক—যাকে প্রশাসন ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে—তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।ফেডারেল নির্দেশনার পর অভিযান তীব্রহোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মিনেসোটাকে “উচ্চ অগ্রাধিকার অঞ্চল” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ফেডারেল টিম মোতায়েন করা হয়।মিনেসোটার গভর্নর ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর অভিযান আরও গতিশীল হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফেডারেল নির্দেশনা আসার পরই অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সমন্বয়ে কাজ করছে।”নতুন ‘বর্ডার জার’–এর দায়িত্ব কী?নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই সমন্বয়ক মূলত তিনটি বিষয়ে নজর দেবেন—- সীমান্ত-সংক্রান্ত ফেডারেল নীতিমালা বাস্তবায়ন – অভিবাসনবিষয়ক অভিযান সমন্বয় – রাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ জোরদার ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই এই পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।”স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগমিনেসোটার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে লাতিনো ও আফ্রিকান কমিউনিটির মধ্যে ভয় আরও বেশি।সেন্ট পলের এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে হঠাৎ গাড়ির সাইরেন শুনলেই মনে হয় অভিযান শুরু হয়েছে। বাচ্চারাও ভয় পাচ্ছে।”স্থানীয় অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিযান বাড়ার ফলে অনেকেই কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন।আইনি সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে ভিড়অভিযান বাড়ার পর মিনেসোটার বিভিন্ন আইনি সহায়তা কেন্দ্রে অভিবাসীদের ভিড় বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের নথিপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে ছুটছেন।একজন আইনজীবী জানান, “গত তিন দিনে আমাদের কাছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ এসেছে। সবাই জানতে চাইছেন—তাদের ঝুঁকি আছে কি না।”রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছেঅভিযানকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল বলছে, “রাজ্যকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, “আইন মেনে থাকা মানুষদের চিন্তার কিছু নেই।”অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর চাপ বাড়লে—- কৃষি – নির্মাণ – রেস্টুরেন্ট – পরিবহন এই চার খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।একজন ব্যবসায়ী বলেন, “যদি শ্রমিকরা কাজে না আসে, তাহলে উৎপাদন কমে যাবে। এতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ মিনেসোটায় আরও অভিযান দেখা যেতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, “অভিযান যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে পরিচালিত হয়।”—উপসংহারমিনেসোটায় ফেডারেল অভিযান ও নতুন ‘বর্ডার জার’ নিয়োগ—দুটি বিষয়ই রাজ্যের অভিবাসী কমিউনিটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে ফেডারেল নীতিমালার পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার ওপর।

_______________________________________________________________________________

Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার
যোগাযোগ:
📧 Email: info@jabaranews24.com
🌐 Website: www.jabaranews24.com
📱 Facebook: facebook.com/jabaranews24
📸 Instagram: instagram.com/jabaranews24
🐦 Twitter: twitter.com/jabaranews24
📺 YouTube: youtube.com/@jabaranews24
**আমাদের অনুসরণ করুন সব সোশ্যাল মিডিয়ায়: @jabaranews

খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তান কূটনীতি

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্কখালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় হ্যান্ডশেক করেছেন। মে ২০২৫ সালে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।বাংলাদেশ সংসদে ঐতিহাসিক মুহূর্তবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের একটি অপেক্ষা কক্ষে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর হেঁটে আয়াজ সাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং হ্যান্ডশেক করেন।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লেখেন, “পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।”আয়াজ সাদিকের বর্ণনাপাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বুধবার রাতে সাদিক এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে বলেন, “তিনি আমার কাছে হেঁটে এসে হ্যালো বললেন, যখন আমি দাঁড়ালাম, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এবং হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘মাননীয়, আমি জানি আপনি কে এবং পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'”সাদিক আরও জানান, জয়শঙ্কর প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারপর তার কাছে আসেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্কর জানতেন যে ক্যামেরা রয়েছে এবং তার আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল।পাকিস্তানের প্রেস বিবৃতিপাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সচিবালয় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করেন। এই মিথস্ক্রিয়ার সময়, ডা. এস জয়শঙ্কর স্পিকারের কাছে নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন যে তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, পাহালগাম হামলার পর থেকে পাকিস্তান ক্রমাগত সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়ে আসছে, যার মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং কথিত মিথ্যা ফ্ল্যাগ পাহালগাম ঘটনার যৌথ তদন্তের প্রস্তাবও রয়েছে।ভারতের প্রতিক্রিয়া: “শুধু সৌজন্য”ভারতীয় কর্মকর্তারা এই সাক্ষাতকে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছিল একটি শোক অনুষ্ঠানে সাধারণ শিষ্টাচার।ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই সাধারণ সৌজন্যকে অতিরঞ্জিত করে কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারত জানিয়েছে যে এই সাক্ষাতের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব নেই।ভারত বলেছে, একটি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মোড় দেওয়া অনুচিত। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সংলাপের কথা বলে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন।

মে ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যা অপারেশন সিন্দুর নামে পরিচিত।এই ঘটনার পর থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে অপরের সাথে প্রকাশ্যে হ্যান্ডশেক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুষ্ঠানেও তারা পরস্পরকে এড়িয়ে চলতেন।ক্রিকেট কূটনীতিও ব্যর্থরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের পুরুষ, মহিলা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান দলও ভারতে খেলতে অস্বীকার করে।এই পটভূমিতে জয়শঙ্করের হ্যান্ডশেক অনেকের কাছে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাকিস্তানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াপাকিস্তানি বিশ্লেষকরা এই সাক্ষাতকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সায়েদ আল জাজিরাকে বলেছেন, “জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া নতুন বছরের জন্য একটি স্বাগতযোগ্য উন্নয়ন বলে মনে করি।”তিনি বলেন, “সম্পর্কের মৌলিক স্বাভাবিকতা যেখানে কর্মকর্তাদের সম্মান দেওয়া হয় এবং হ্যান্ডশেক করা হয়, এটি ন্যূনতম যা দুর্ভাগ্যবশত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল।”পাকিস্তানি গণমাধ্যম এই হ্যান্ডশেককে ভারত-পাকিস্তান সংলাপের একটি ভালো সূচক হিসেবে তুলে ধরেছে।ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়াভারতীয় ভাষ্যকাররা এই মিথস্ক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। কেউ কেউ মনে করেন এটি পাকিস্তানকে ভুল সংকেত দিতে পারে। তবে অনেকেই একমত যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহতএই হ্যান্ডশেকের পাশাপাশি, নিয়মিত আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে পারমাণবিক স্থাপনা এবং বন্দীদের তালিকা প্রদান করেছে, যা একটি প্রচলিত কূটনৈতিক অনুশীলন।২০২৬ সালে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা?বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্যান্ডশেক সম্ভবত তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক অগ্রগতি আনবে না, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে হিমায়িত সম্পর্কে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত দিতে পারে।যদিও দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত রয়েছে – কাশ্মীর সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ, এবং সীমান্ত সংঘর্ষ – তবুও মৌলিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার পুনর্নির্মাণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।বাংলাদেশের ভূমিকাখালেদা জিয়ার জানাজা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ প্রদান করেছে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা মিলিত হতে পেরেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ছবি প্রকাশ করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের ভূমিকা তুলে ধরেছে।মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রচারে আগ্রহী, এবং এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির আশাদক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তান শান্তি চান। একটি ছোট হ্যান্ডশেক হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পরিবর্তন করবে না, তবে এটি দেখায় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?এখন প্রশ্ন হলো, এই হ্যান্ডশেকের পরবর্তী কী হবে? দুই দেশ কি আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করবে? নাকি এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হতে পারে। তবে এই ধরনের ছোট কূটনৈতিক আচরণ ভবিষ্যতে বড় সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।উপসংহারঢাকায় জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের হ্যান্ডশেক ২০২৬ সালের শুরুতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে সবচেয়ে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে পারে।দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হ্যান্ডশেক হয়তো একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু কখনও কখনও দীর্ঘ যাত্রা ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়।

দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনায় ভারতীয় হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

নয়াদিল্লি-ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি নাগরিকদের রুম দিতে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা এতটাই কঠোর যে চিকিৎসা ভিসায় আসা রোগীদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিলিগুড়ি, মালদা ও দার্জিলিংয়ে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি, মালদা এবং দার্জিলিং জেলার হোটেল মালিক সমিতিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রেটার সিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ জানান, সংস্থার নির্বাহী কমিটির ভোটে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, “আমাদের ৯৭ শতাংশ সদস্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।”
সিলিগুড়ির প্রায় ৩০০টি হোটেল এবং মালদা ও দার্জিলিংয়ের ১৮০টির বেশি হোটেল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। হোটেলগুলোর সামনে “বয়কট বাংলাদেশ” লেখা পোস্টার টাঙানো হয়েছে।
চিকিৎসা ভিসাধারীদেরও ছাড় নেই
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা এবং শিক্ষা ভিসাধারীদের ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। মালদা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী জানান, সংস্থার সব সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশিদের রুম বরাদ্দ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিলিগুড়ির জংশন এলাকার এক হোটেল ম্যানেজার দিলীপ মল্লিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের দেশের স্বার্থই সবার আগে। ব্যবসার চেয়ে জাতীয় মর্যাদা বড়।”
ত্রিপুরাতেও অনুরূপ পদক্ষেপ
ত্রিপুরার অল ত্রিপুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিও (এটিএইচআরওএ) ২ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
সমিতির সম্পাদক ভাস্কর চক্রবর্তী জানান, “২ ডিসেম্বরের আগে চেক-ইন করা বাংলাদেশি নাগরিকরা থাকতে পারবেন, তবে নতুন বুকিং নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র জটিল চিকিৎসার জন্য যথাযথ ডকুমেন্টসহ কেউ এলে তাকে রুম দেওয়া হতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আরও কঠোর দাবি
শুধু হোটেল নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সিলিগুড়ির ব্যবসায়ী সুজন দাস বলেন, “আমরা চাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমস্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হোক। পরিবহন, হোটেল, পণ্য বিক্রয় এমনকি চিকিৎসা সুবিধাও বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া বন্ধ করা উচিত।”
স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স এই হোটেল মালিক সমিতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
হোটেল মালিকরা এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন:
১. সংখ্যালঘু নির্যাতন: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা।
২. ভারতীয় পতাকা অসম্মান: বাংলাদেশে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অসম্মানের অভিযোগ এবং ভারতবিরোধী মনোভাব প্রদর্শন।
৩. চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার।
৪. দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড: বাংলাদেশে একজন হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যা ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
৫. রাজনৈতিক অস্থিরতা: বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতবিরোধী বক্তব্য।
বাংলাদেশের পাল্টা পদক্ষেপ
এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে নয়াদিল্লি ও আগরতলায় কনস্যুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের সামনেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
পর্যটন ও চিকিৎসা খাতে প্রভাব
সিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এবং প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক এখানে আসেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
গত কয়েকদিনে মাত্র ১০ জন বাংলাদেশি সিলিগুড়িতে এসেছিলেন, প্রধানত চিকিৎসা বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে। এখন তাদেরও হোটেল পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসা পর্যটন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি জটিল চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
জাতীয় সরকারের অবস্থান
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখনও এই স্থানীয় হোটেল মালিকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বহিরাঙ্গন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থা
বৈধ ভারতীয় ভিসা থাকলেও বাংলাদেশিরা এখন সিলিগুড়ি শহরে প্রবেশ করতে পারলেও হোটেল বা স্থানীয় পরিবহন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সেবাদানকারীরা সক্রিয়ভাবে ব্যবসা প্রত্যাখ্যান করছেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নতুন নীতিতে শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের জন্য আগের ছাড়ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের সম্মিলিত বয়কটকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ নাগরিক ও রোগীদের ভোগান্তির শিকার হওয়া উচিত নয়।
সিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব
সিলিগুড়ি করিডোর, যা “চিকেনস নেক” নামেও পরিচিত, ভারতীয় মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সাথে সংযুক্ত করে। এর কৌশলগত গুরুত্ব একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি সংবেদনশীল বিষয় করে তোলে।
উপসংহার
এই নিষেধাজ্ঞা দেখাচ্ছে কীভাবে কূটনৈতিক উত্তেজনা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের তৃণমূল পর্যায়ের বয়কট দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা: কী হচ্ছে?
চিকিৎসা পর্যটনে বাংলাদেশি নির্ভরতা: বিকল্প কী?
সংখ্যালঘু সুরক্ষা: দুই দেশের দায়িত্ব
Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার