Category Archives: জাতীয়

দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা: গভীর উদ্বেগ, নিরাপত্তার দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদক

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

রাজশাহীতে তীব্র শীতের প্রভাব: তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে

রাজশাহী, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকউত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে রাজশাহীসহ দেশের ১০ জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।মৌসুমের রেকর্ড ভাঙলআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে।রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, “আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম।”১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহআজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) যে ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে:রাজশাহী – ৭ ডিগ্রি (সর্বনিম্ন)পাবনাবগুড়াদিনাজপুরনীলফামারীপঞ্চগড়রাঙামাটিযশোরকুষ্টিয়াচুয়াডাঙ্গা – ৭.৫ ডিগ্রিচুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, “গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।”স্থবির জনজীবনতীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্করা।রাজশাহী নগরীর রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানান, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। হাত-পা জমে যাচ্ছে। ফলে আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।”দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, “সকালে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঠাণ্ডায় শরীর শক্ত হয়ে আছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”যানবাহন চলাচল ব্যাহতকুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকালেও প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার। ফলে যানবাহন চলাচল ধীর গতিতে হয়েছে।পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফেরি আটকে ছিল।সূর্যের দেখা মেলেনিসোমবার পৌনে ৭টার দিকে সূর্যোদয়ের কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়েছিল পুরো এলাকা।একজন বয়স্ক ব্যক্তি জানান, “এত ঘন কুয়াশা অনেক বছর পর দেখলাম। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”তাপমাত্রার হঠাৎ পতনআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল সাড়ে ৮ ডিগ্রি। এই ব্যবধান কম থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে গেছে। তাই শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, “রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রা বেশি না বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি।”আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবেরাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিশেষ করে ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, “আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।”১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহবাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সতর্ক করেছে যে শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।ঢাকায় শীত বাড়েনিদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা আজ বেড়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।শীতার্তদের জন্য সহায়তাএই তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক জানান, “আমরা শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরম খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”স্বাস্থ্য পরামর্শচিকিৎসকরা শীত থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছেন:ভোরে বাইরে না যাওয়া: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের হবেন নাগরম কাপড় পরা: পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পরিধান করুনগরম পানীয়: গরম চা, স্যুপ বা পানি পান করুনশিশু ও বয়স্কদের যত্ন: বিশেষভাবে শিশু ও বয়স্কদের দিকে খেয়াল রাখুনঘরের ভেতরে থাকা: যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং হৃদরোগীদের সমস্যা বাড়ে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”কৃষি ও গবাদিপশুতে প্রভাবতীব্র শীতে কৃষি ও গবাদিপশুতেও প্রভাব পড়ছে। রবি শস্যে হিমের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন।রাজশাহীর একজন কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “আলু, টমেটো, ফুলকপির ক্ষেতে কুয়াশা জমে গেছে। শীতের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”গবাদিপশুর জন্যও বিশেষ যত্ন নিতে হচ্ছে। পশু চিকিৎসকরা পশুর থাকার জায়গায় খড় বিছিয়ে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবাংলাদেশে সাধারণত জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবারের শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল।উপসংহাররাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।