Category Archives: জাতীয়

সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা: দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান, গ্রেপ্তার আরও অনেকে

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানপুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।নতুন গ্রেপ্তার: গত রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলা থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া: সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। জড়িতরা যে দলের বা মতেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।উপদ্রুত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাসহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি বেশ কিছু স্পর্শকাতর স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।টহল জোরদার: বিশেষ করে রাতে ও ভোরে মন্দির এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাড়াগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে যৌথ বাহিনী।আস্থার সংকট দূর: জেলা প্রশাসকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সাহস জোগাতে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করছেন।প্রশাসনের হুঁশিয়ারিপুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাবারা নিউজ ২৪-কে জানান, “যারা পর্দার আড়ালে থেকে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও শান্তি কমিটিসহিংসতা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ এই গণগ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন। অনেক এলাকায় স্থানীয় যুবক ও মুরুব্বিদের নিয়ে ‘সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যারা নিজ উদ্যোগে পাড়া-মহল্লায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্যমানবাধিকার সংগঠনগুলো গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তারা জোর দিচ্ছেন স্বচ্ছ তদন্তের ওপর। তাদের মতে, প্রকৃত দোষীরা যাতে শাস্তির আওতায় আসে এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।গুজব প্রতিরোধের ডাকপ্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও অনুরোধ করা হয়েছে, কেউ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কোনো ছবি বা ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হন। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উপসংহারসংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য সামাজিক ঐক্যের বিকল্প নেই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এই অস্থিরতা চিরতরে বন্ধ করতে। Jabara News 24 এই অভিযানের প্রতিটি খবরের ওপর কড়া নজর রাখছে।

_______________________________________________________________________

Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার

যোগাযোগ:

📧 Email: info@jabaranews24.com

🌐 Website: www.jabaranews24.com

📱 Facebook: facebook.com/jabaranews24

সরকারের কঠোর নির্দেশনা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর বন্ধে

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো রোধে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক ইস্যু এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহসরকারের জারি করা নতুন নির্দেশনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:তড়িৎ ব্যবস্থা: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স বা টিকটক) উসকানিমূলক বা অসত্য তথ্য প্রচার করে, তবে সেই অ্যাকাউন্ট বা পেজ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হবে।শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা: কেবল ভুয়া খবর তৈরি করাই নয়, বরং যাচাই না করে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।মনিটরিং সেল: গুজব শনাক্ত করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বিশেষ ‘সাইবার মনিটরিং সেল’। প্রতিটি জেলার ডিবি ও সাইবার ইউনিটকে এ বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিসরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হবে। কোনো ধরণের উসকানি বা গুজব ধরা পড়লে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।বিটিআরসির ভূমিকাবাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) জানিয়েছে, তারা ফেসবুক ও মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কন্টেন্ট বা লিঙ্ক দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে।কেন এই জরুরি নির্দেশনা?তথ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে এডিট করা ছবি ও পুরোনো ভিডিও নতুন বলে প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।সচেতন হওয়ার আহ্বানতথ্য প্রতিমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু অপতথ্য বা গুজব কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতা নয়। সাধারণ মানুষকে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”গুজব শনাক্ত করার উপায়জাবারা নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে পাঠকদের জন্য কিছু টিপস:লিঙ্ক যাচাই: যেকোনো চাঞ্চল্যকর নিউজের লিঙ্কটি বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টালের কি না তা চেক করুন।ছবির সত্যতা: পুরোনো বা এডিট করা ছবি কি না তা বুঝতে রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্য নিন।অফিসিয়াল সোর্স: সরকারি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড পেজের তথ্য অনুসরণ করুন।উপসংহারইন্টারনেটের এই যুগে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও নাগরিক দায়িত্ব। সরকারের এই নতুন নির্দেশনা গুজব সন্ত্রাস বন্ধে কতোটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত দায়িত্বশীলতার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাঝেই এবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকদের মনে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কেন এই মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা?জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।ভর্তুকির চাপ: আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাত থেকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।উৎপাদন খরচ: আমদানিকৃত এলএনজি (LNG) এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।কত বাড়তে পারে দাম?যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে:বিদ্যুৎ: খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।গ্যাস: বিশেষ করে শিল্প-কারখানা এবং বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আবাসিক চুলায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিপাকে শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকবিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন খাতে। শিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার ফলে বাজারে আবার দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।রাজধানীর এক গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, “এমনিতেই চাল-ডাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছি, তার ওপর যদি বিদ্যুৎ আর গ্যাসের বিল বাড়ে, তবে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”বিইআরসি ও সরকারের অবস্থানবাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পেলে গণশুনানি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুট করে দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমানো এবং অপচয় রোধে কঠোর হওয়া উচিত।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগজ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস কাজে লাগিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো দরকার।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন দাম কবে থেকে কার্যকর হতে পারে। Jabara News 24 এই বিষয়ে প্রতিটি মুহূর্তের খবরের ওপর নজর রাখছে।উপসংহারবিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হলে সেটি দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চেয়ে আছেন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা: গভীর উদ্বেগ, নিরাপত্তার দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদক

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

রাজশাহীতে তীব্র শীতের প্রভাব: তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে

রাজশাহী, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকউত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে রাজশাহীসহ দেশের ১০ জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।মৌসুমের রেকর্ড ভাঙলআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে।রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, “আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম।”১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহআজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) যে ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে:রাজশাহী – ৭ ডিগ্রি (সর্বনিম্ন)পাবনাবগুড়াদিনাজপুরনীলফামারীপঞ্চগড়রাঙামাটিযশোরকুষ্টিয়াচুয়াডাঙ্গা – ৭.৫ ডিগ্রিচুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, “গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।”স্থবির জনজীবনতীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্করা।রাজশাহী নগরীর রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানান, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। হাত-পা জমে যাচ্ছে। ফলে আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।”দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, “সকালে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঠাণ্ডায় শরীর শক্ত হয়ে আছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”যানবাহন চলাচল ব্যাহতকুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকালেও প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার। ফলে যানবাহন চলাচল ধীর গতিতে হয়েছে।পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফেরি আটকে ছিল।সূর্যের দেখা মেলেনিসোমবার পৌনে ৭টার দিকে সূর্যোদয়ের কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়েছিল পুরো এলাকা।একজন বয়স্ক ব্যক্তি জানান, “এত ঘন কুয়াশা অনেক বছর পর দেখলাম। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”তাপমাত্রার হঠাৎ পতনআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল সাড়ে ৮ ডিগ্রি। এই ব্যবধান কম থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে গেছে। তাই শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, “রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রা বেশি না বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি।”আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবেরাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিশেষ করে ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, “আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।”১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহবাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সতর্ক করেছে যে শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।ঢাকায় শীত বাড়েনিদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা আজ বেড়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।শীতার্তদের জন্য সহায়তাএই তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক জানান, “আমরা শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরম খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”স্বাস্থ্য পরামর্শচিকিৎসকরা শীত থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছেন:ভোরে বাইরে না যাওয়া: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের হবেন নাগরম কাপড় পরা: পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পরিধান করুনগরম পানীয়: গরম চা, স্যুপ বা পানি পান করুনশিশু ও বয়স্কদের যত্ন: বিশেষভাবে শিশু ও বয়স্কদের দিকে খেয়াল রাখুনঘরের ভেতরে থাকা: যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং হৃদরোগীদের সমস্যা বাড়ে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”কৃষি ও গবাদিপশুতে প্রভাবতীব্র শীতে কৃষি ও গবাদিপশুতেও প্রভাব পড়ছে। রবি শস্যে হিমের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন।রাজশাহীর একজন কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “আলু, টমেটো, ফুলকপির ক্ষেতে কুয়াশা জমে গেছে। শীতের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”গবাদিপশুর জন্যও বিশেষ যত্ন নিতে হচ্ছে। পশু চিকিৎসকরা পশুর থাকার জায়গায় খড় বিছিয়ে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবাংলাদেশে সাধারণত জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবারের শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল।উপসংহাররাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।