Category Archives: রাজনীতি

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২,৫৮২ প্রার্থী ও চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 রাজনীতি ডেস্কগণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো।২,৫৮২ প্রার্থীর মহাসমর: মনোনয়ন জমা শেষ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশের ৩০০টি আসনে মোট ২,৫৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ঢাকা বিভাগে। মজার ব্যাপার হলো, রবিবার পর্যন্ত মাত্র ১৬৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও সোমবার শেষ দিনে অধিকাংশ প্রার্থী তাদের কাগজপত্র জমা দেন।মনোনয়ন যাচাই চলছে: ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া আজ ৪ জানুয়ারি (রবিবার) শেষ হবে। রিটার্নিং অফিসাররা প্রতিটি মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখছেন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।নির্বাচন সময়সূচি এক নজরেনির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ১১ ডিসেম্বর টেলিভিশনে ভাষণে নির্বাচনের সম্পূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো:মনোনয়নপত্র জমা: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (শেষ)মনোনয়ন যাচাই: ৩০ ডিসেম্বর – ৪ জানুয়ারি ২০২৬আপিল দাখিল: ৫ – ৯ জানুয়ারি ২০২৬আপিল নিষ্পত্তি: ১২ – ১৮ জানুয়ারিপ্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি (শেষ দিন)চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: ২১ জানুয়ারিপ্রতীক বরাদ্দ: ২২ জানুয়ারিপ্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারিপ্রচারণা শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আপিল প্রক্রিয়া শুরুমনোনয়ন যাচাইয়ে যারা বাদ পড়বেন বা অন্যদের মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি থাকবে, তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ স্থাপন করেছে ১০টি অঞ্চল (আট বিভাগ এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুর অঞ্চল) থেকে আপিল গ্রহণের জন্য। কমিশন ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিলের নিষ্পত্তি করবে।নারী প্রার্থীর ব্যাপক বৃদ্ধিএবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিশেষত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি থেকে অনেক নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

যে দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেবিএনপি – প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীবেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বিএনপি চারটি আসনে কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না: সিলেট-৫, নীলফামারী-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪। এই আসনগুলোতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রার্থী দিবে।জামায়াতে ইসলামী – নতুন জোটজামায়াতে ইসলামী ২৮ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সাথে নির্বাচনী জোট ঘোষণা করেছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, জামায়াতের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রার্থী নতুন, যাদের আগে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা নেই।ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) – নতুন শক্তিজুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া এনসিপি সংবিধান প্রণয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের অনানুষ্ঠানিক স্লোগান: “এবার জনগণ চায়, সংবিধান পরিষদ নির্বাচন” এবং “বাংলাদেশের সমাধান, নতুন সংবিধান”।এনসিপি ৬ নভেম্বর থেকে প্রথম দল হিসেবে মনোনয়ন ফরম ইশু করে। শ্রমিক-কৃষক এবং জুলাই বিপ্লবে আহত প্রতিবাদকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ ছাড় রাখা হয়। দৈনিক যুগান্তর জানিয়েছে, এনসিপির প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী দলের সদস্য নন।আওয়ামী লীগ অনুপস্থিতটানা চারবার নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দল নিষিদ্ধের আওতায় রয়েছে।কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বয়কটবঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।জুলাই সনদ গণভোট: ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তনির্বাচনের সাথে সাথে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনঃসুবিবন্যাসের লক্ষ্যে মূল সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা।গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের, আর নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা-কালো। উভয় ব্যালট একটি মাত্র ব্যালট বক্সে ফেলা হবে।নির্বাচনী প্রস্তুতিভোটার ও কেন্দ্রনির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রায় ১২.৭৬ কোটি ভোটারের জন্য ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২,৪৪,৭৩৯টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।ভোট গ্রহণের সময়এবার ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ঘণ্টা বেশি। কারণ ভোটারদের নির্বাচন এবং গণভোট উভয়ে ভোট দিতে হবে।প্রবাসীদের ভোটপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাক ভোটের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২,৯৭,০০০ প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। তাদের ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম না থেকে শুধু দল ও স্বতন্ত্র প্রতীক থাকবে। ভোট শেষ হওয়ার আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের ব্যালট পৌঁছাতে হবে।নতুন নিয়মএবার সব প্রার্থীকে অথবা তাদের প্রস্তাবক বা সমর্থককে ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী প্রচারণা পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগএবার কমিশন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছে – দুই বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), তিন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা) এবং ৬৪ জেলা জেলা উপায়ুক্ত।লাখো কর্মকর্তা – প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার – নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎসময়সূচি ঘোষণার সাথে সাথে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গেছে। উপদেষ্টা এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রচারণার জন্য সরকারি সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকার এমন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন বা উদ্বোধন করতে পারবে না যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সময়সূচি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাবলিক স্থান থেকে পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলতে।প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানপ্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার ১৩তম জাতীয় নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ বলে উল্লেখ করেন এবং জোর দেন যে এটি অবশ্যই সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে হবে।তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন নতুন ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা একটি আধুনিক, ন্যায়বিচারপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে সফল হব।”প্রত্যাশা ও উদ্বেগরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান লড়াই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।এই ভোট দেশের গণতান্ত্রিক গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা শক্তিশালীকরণ প্রচারণার প্রধান বিষয় হবে।আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকজাতিসংঘ থেকে কমনওয়েলথ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিয়োগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তারা কারচুপি রোধে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের উপর জোর দিচ্ছেন।কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?সাধারণত প্রতি পাঁচ বছরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের মাত্র দুই বছর পরই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কারণ ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার উৎখাত হয়।২০২৪ সালের নির্বাচন রেকর্ড কম ভোটার উপস্থিতি এবং বিতর্কিত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ২০২৬ সালের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাচ্যালেঞ্জ:স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাসহিংসতা ও কারচুপি প্রতিরোধসব দলের জন্য সমান সুযোগআওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচারসম্ভাবনা:গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধারঅর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাআন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিনতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানউপসংহার১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “আমি সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করতে।”এই নির্বাচন শুধু সরকার নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 প্রতিবেদকবিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।মৃত্যুর মুহূর্তে পরিবার ও নেতৃবৃন্দমৃত্যুর সময় হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ভাই শামীম ইসকান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সব আত্মীয়স্বজন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।মেডিকেল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দও তখন উপস্থিত ছিলেন। ফজরের নামাজের ঠিক পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দীর্ঘ রোগভোগের শেষেবেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার রাতে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়ে এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার বয়স এবং সামগ্রিকভাবে খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে একসঙ্গে একাধিক চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছিল না।গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী: এক ঐতিহাসিক যাত্রা১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীই নন, বিশ্বের প্রথম নারী যিনি একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছেন।মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভকালে তিনি কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন এবং ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ।১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার জীবন বদলে যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দলীয় নেতাদের আহ্বানে তিনি বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।তিনবার প্রধানমন্ত্রীনব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন:প্রথম মেয়াদ: ১৯৯১-১৯৯৬দ্বিতীয় মেয়াদ: ১৯৯৬ (স্বল্প সময়)তৃতীয় মেয়াদ: ২০০১-২০০৬তার শাসনামলে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার হয়। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।চড়াই-উতরাইয়ের রাজনৈতিক জীবনদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং অসংখ্য চড়াই-উৎরাই পার করেছেন। তবে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সর্বদা অবিচল।২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তিনি আইনি জটিলতার মধ্যে ছিলেন। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অবমুক্ত করা হয়।VVIP ঘোষণা ও বিশেষ নিরাপত্তা২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সরকার তাকে VVIP ঘোষণা করে এবং তার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। তার শারীরিক অবস্থা তখন থেকেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে ছিল।রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়াবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন মহান নেত্রীকে হারালো।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শোক জানিয়েছেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মহান আল্লাহ তার ওপর রহম করুন এবং তাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু তাকে বাংলাদেশের আপসহীন কিংবদন্তি নেত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তার সাহসী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারবিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তারা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে ২০ বছরের মধ্যে দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান হন।আল জাজিরা, রয়টার্স, এএফপিসহ বিশ্বের প্রধান গণমাধ্যমগুলো তার মৃত্যু সংবাদ প্রধান শিরোনামে প্রচার করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢেউফেসবুক, টুইটার (এক্স) সহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ঢেউ বইছে। সর্বসাধারণ জনগণ তাদের নিজেদের প্রোফাইলে তার ছবি শেয়ার করে শোক প্রকাশ করছেন এবং মাগফিরাতের দোয়া করছেন।জানাজার সময়সূচিমরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানিয়েছে।দলের নেতারা জানিয়েছেন, যথাযথ মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। দেশবাসী এবং দলের লাখো নেতা-কর্মী তাদের প্রিয় নেত্রীর শেষ দেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।একটি যুগের অবসানবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটল। একজন গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া এই নারী তার অদম্য সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।তার রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।শেষকথাবাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সরকার প্রধান, গণতন্ত্রের সংগ্রামী সৈনিক বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে সমগ্র জাতি।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মহান আল্লাহ তার রূহের মাগফিরাত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশে তারেক রহমান: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-২০২ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়।
আবেগঘন মুহূর্ত বিমানবন্দরে
বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা সকাল থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও দেশে ফিরেছেন।
বিমানবন্দরে নামার পর আবেগাপ্লুত তারেক রহমান মাতৃভূমির মাটি স্পর্শ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফেসবুকে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের সাথে সাথে তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!”
সিলেট হয়ে ঢাকায়
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) ছেড়ে আসা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিশেষভাবে প্রস্তুত এই ফ্লাইটে তারেক রহমানের জন্য A1 সিট বরাদ্দ করা হয়েছিল। উচ্চপদস্থ যাত্রী থাকার কারণে বিমান পরিচালনায় বিশেষ সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
লক্ষ জনতার ঢল রাজধানীতে
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঢাকায় এসেছেন তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে। বিশেষ ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে নেতা-কর্মীরা রাজধানীতে ভিড় করেছেন।
পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় বিশাল মঞ্চ তৈরি করে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ মানুষ সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ – বিশেষ বাসে যাত্রা
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান বিশেষভাবে প্রস্তুত করা লাল রঙের একটি বাসে করে সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন। বাসটির গায়ে লেখা “সবার আগে বাংলাদেশ” – যা দলের মূল শ্লোগান।
জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে নামে পরিচিত রাস্তা ধরে বাসটি এগিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
পূর্বাচল মঞ্চে ঐতিহাসিক ভাষণ
পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছে তারেক রহমান লক্ষ জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মায়ের সাথে সাক্ষাৎ
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে। ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের এই মিলন হবে অত্যন্ত আবেগঘন। তাই বিমানবন্দর ও এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি জায়গা থেকে সংবর্ধনার স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার
তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো তার প্রত্যাবর্তনের খবর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে।
আল জাজিরার শিরোনাম ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা। রয়টার্স তাকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচনের আগে তার এই প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে।
১৭ বছরের ইতিহাস
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় আটক হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে চলে যান।
সে বছরের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে আসার পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায় তার। একের পর এক মামলায় জর্জরিত হন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি নেতারা বলছেন, তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনে জয়ের পথ সুগম করবে।
লন্ডনে ১৭ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছিলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো।”
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে টার্মিনালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সম্ভাব্য যানজটের কথা মাথায় রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে থেকেও নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনতার প্রতিক্রিয়া
“মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে”, “বীরের বেশে তারেক রহমান, আসবে এবার বাংলাদেশে” – এমন শত শত শ্লোগানে মুখরিত ছিল রাজধানী। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের হয়েছে। রাস্তায় মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে—জুলুম কখনো চিরস্থায়ী হয় না, আর মজলুমের জয় অনিবার্য।”
এখন তিনি থাকবেন কোথায়?
তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বলে জানা গেছে। এই বাসার পাশেই ‘ফিরোজা’ বাসভবন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক বছর ধরে থাকছেন।
পরবর্তী কর্মসূচি
বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে তারেক রহমানের ব্যাপক বৈঠক হবে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
দলের নেতারা বলছেন, শীঘ্রই তিনি দেশব্যাপী সফরে যাবেন এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
লন্ডনে আলোচনা সভায় তিনি ৩১ দফা পরিকল্পনা এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে তার রূপরেখা দিয়েছেন।
উপসংহার
১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে এবং আসন্ন নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখবে – তা নিয়ে এখন সবার দৃষ্টি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক, বলেছেন তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের উন্নয়নে এই প্রত্যাবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
•আরও পড়ুন:
•তারেক রহমানের আগমনে পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশ
•আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরা
•খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের আবেগঘন সাক্ষাৎ
•Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার