Tag Archives: #জাবারানিউজ২৪

রাজশাহীতে তীব্র শীতের প্রভাব: তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে

রাজশাহী, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকউত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে রাজশাহীসহ দেশের ১০ জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।মৌসুমের রেকর্ড ভাঙলআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে।রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, “আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম।”১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহআজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) যে ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে:রাজশাহী – ৭ ডিগ্রি (সর্বনিম্ন)পাবনাবগুড়াদিনাজপুরনীলফামারীপঞ্চগড়রাঙামাটিযশোরকুষ্টিয়াচুয়াডাঙ্গা – ৭.৫ ডিগ্রিচুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, “গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।”স্থবির জনজীবনতীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্করা।রাজশাহী নগরীর রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানান, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। হাত-পা জমে যাচ্ছে। ফলে আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।”দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, “সকালে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঠাণ্ডায় শরীর শক্ত হয়ে আছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”যানবাহন চলাচল ব্যাহতকুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকালেও প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার। ফলে যানবাহন চলাচল ধীর গতিতে হয়েছে।পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফেরি আটকে ছিল।সূর্যের দেখা মেলেনিসোমবার পৌনে ৭টার দিকে সূর্যোদয়ের কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়েছিল পুরো এলাকা।একজন বয়স্ক ব্যক্তি জানান, “এত ঘন কুয়াশা অনেক বছর পর দেখলাম। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”তাপমাত্রার হঠাৎ পতনআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল সাড়ে ৮ ডিগ্রি। এই ব্যবধান কম থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে গেছে। তাই শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, “রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রা বেশি না বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি।”আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবেরাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিশেষ করে ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, “আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।”১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহবাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সতর্ক করেছে যে শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।ঢাকায় শীত বাড়েনিদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা আজ বেড়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।শীতার্তদের জন্য সহায়তাএই তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক জানান, “আমরা শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরম খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”স্বাস্থ্য পরামর্শচিকিৎসকরা শীত থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছেন:ভোরে বাইরে না যাওয়া: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের হবেন নাগরম কাপড় পরা: পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পরিধান করুনগরম পানীয়: গরম চা, স্যুপ বা পানি পান করুনশিশু ও বয়স্কদের যত্ন: বিশেষভাবে শিশু ও বয়স্কদের দিকে খেয়াল রাখুনঘরের ভেতরে থাকা: যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং হৃদরোগীদের সমস্যা বাড়ে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”কৃষি ও গবাদিপশুতে প্রভাবতীব্র শীতে কৃষি ও গবাদিপশুতেও প্রভাব পড়ছে। রবি শস্যে হিমের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন।রাজশাহীর একজন কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “আলু, টমেটো, ফুলকপির ক্ষেতে কুয়াশা জমে গেছে। শীতের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”গবাদিপশুর জন্যও বিশেষ যত্ন নিতে হচ্ছে। পশু চিকিৎসকরা পশুর থাকার জায়গায় খড় বিছিয়ে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবাংলাদেশে সাধারণত জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবারের শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল।উপসংহাররাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আজ চার্জশিট জমা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই দ্রুত বিচার

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিচার প্রতিবেদকজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট আজ ৭ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে চার্জশিট চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।চার্জশিট আজই জমা: স্বরাষ্ট্র সচিবসোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাআল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।”স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশ্বাস: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই বিচারঅন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আগে বলেছিলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।আসিয়া হত্যাকাণ্ডের মডেল অনুসরণপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মামলার চার্জশিট যথাযথভাবে দাখিল করা হবে। তার আশা, ৭ জানুয়ারির পর চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা যাবে।তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, আসিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সরকার এবারও শক্ত ও নির্ভুল চার্জশিট দিতে চায়, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর না থাকে।আইজিপির নিশ্চয়তাপুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছিলেন যে মামলার চার্জশিট ৭ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।১২ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান এই জুলাই অভ্যুত্থানের আইকন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ শয়নওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনার পর সংসদ ভবনে রাখা হয়েছিল জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিঅস্ত্র উদ্ধারর‍্যাব সদস্যরা নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়ার বিল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। এই সূত্র ধরেই মূল আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে দুই প্রধান আসামি সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জবানবন্দি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।ওসমান হাদি: জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক২৭ বছর বয়সী শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার সাহসী ভূমিকা ও বজ্রকণ্ঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য তাকে যুব সমাজের প্রিয় নেতায় পরিণত করেছিল।আগস্ট ২০২৫-এ তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।শাহবাগ অবরোধ অব্যাহতওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা করেছে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।শাহবাগ মোড়ে প্রতিদিন হাজারো তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন ন্যায়বিচারের দাবিতে। তাদের শ্লোগান: “হাদি ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।”চার্জশিটে কী থাকবে?সূত্র জানিয়েছে, চার্জশিটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:১. অপরাধের বিবরণ: হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ২. আসামিদের তালিকা: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব জড়িতদের নাম৩. ব্যবহৃত অস্ত্র: উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক রিপোর্ট৪. সাক্ষী বিবরণী: প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি৫. ভিডিও প্রমাণ: সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল এভিডেন্স৬. মোবাইল ফোন রেকর্ড: যোগাযোগের প্রমাণ৭. ষড়যন্ত্রের বিবরণ: পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিতদ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারআইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগে ঘোষণা করেছিলেন যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এই ধরনের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।রাজনৈতিক প্রভাবওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তার মৃত্যুতে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে তার অনুপস্থিতি ঢাকা-৮ আসনে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেকে বলছেন, তিনি জীবিত থাকলে এই আসন থেকে জিততেন।জনগণের প্রতিক্রিয়াসামাজিক মাধ্যমে ওসমান হাদির ন্যায়বিচারের দাবিতে হাজার হাজার পোস্ট করা হচ্ছে। #JusticeForHadi হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, “হাদি ভাই আমাদের আদর্শ। তার খুনিদের অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”আন্তর্জাতিক দৃষ্টিওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও স্থান পেয়েছে। বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই ঘটনা প্রকাশ করেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছে।উপসংহারওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আজ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় তদন্ত এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদের আত্মা শান্তি পাক এবং তার খুনিরা যথাযথ শাস্তি পাক – এটাই এখন সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।