Tag Archives: #বাংলাদেশনিউজ

সরকারের কঠোর নির্দেশনা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর বন্ধে

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো রোধে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক ইস্যু এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহসরকারের জারি করা নতুন নির্দেশনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:তড়িৎ ব্যবস্থা: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স বা টিকটক) উসকানিমূলক বা অসত্য তথ্য প্রচার করে, তবে সেই অ্যাকাউন্ট বা পেজ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হবে।শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা: কেবল ভুয়া খবর তৈরি করাই নয়, বরং যাচাই না করে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।মনিটরিং সেল: গুজব শনাক্ত করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বিশেষ ‘সাইবার মনিটরিং সেল’। প্রতিটি জেলার ডিবি ও সাইবার ইউনিটকে এ বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিসরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হবে। কোনো ধরণের উসকানি বা গুজব ধরা পড়লে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।বিটিআরসির ভূমিকাবাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) জানিয়েছে, তারা ফেসবুক ও মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কন্টেন্ট বা লিঙ্ক দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে।কেন এই জরুরি নির্দেশনা?তথ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে এডিট করা ছবি ও পুরোনো ভিডিও নতুন বলে প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।সচেতন হওয়ার আহ্বানতথ্য প্রতিমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু অপতথ্য বা গুজব কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতা নয়। সাধারণ মানুষকে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”গুজব শনাক্ত করার উপায়জাবারা নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে পাঠকদের জন্য কিছু টিপস:লিঙ্ক যাচাই: যেকোনো চাঞ্চল্যকর নিউজের লিঙ্কটি বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টালের কি না তা চেক করুন।ছবির সত্যতা: পুরোনো বা এডিট করা ছবি কি না তা বুঝতে রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্য নিন।অফিসিয়াল সোর্স: সরকারি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড পেজের তথ্য অনুসরণ করুন।উপসংহারইন্টারনেটের এই যুগে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও নাগরিক দায়িত্ব। সরকারের এই নতুন নির্দেশনা গুজব সন্ত্রাস বন্ধে কতোটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত দায়িত্বশীলতার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাঝেই এবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকদের মনে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কেন এই মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা?জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।ভর্তুকির চাপ: আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাত থেকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।উৎপাদন খরচ: আমদানিকৃত এলএনজি (LNG) এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।কত বাড়তে পারে দাম?যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে:বিদ্যুৎ: খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।গ্যাস: বিশেষ করে শিল্প-কারখানা এবং বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আবাসিক চুলায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিপাকে শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকবিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন খাতে। শিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার ফলে বাজারে আবার দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।রাজধানীর এক গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, “এমনিতেই চাল-ডাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছি, তার ওপর যদি বিদ্যুৎ আর গ্যাসের বিল বাড়ে, তবে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”বিইআরসি ও সরকারের অবস্থানবাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পেলে গণশুনানি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুট করে দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমানো এবং অপচয় রোধে কঠোর হওয়া উচিত।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগজ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস কাজে লাগিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো দরকার।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন দাম কবে থেকে কার্যকর হতে পারে। Jabara News 24 এই বিষয়ে প্রতিটি মুহূর্তের খবরের ওপর নজর রাখছে।উপসংহারবিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হলে সেটি দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চেয়ে আছেন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।