Tag Archives: #Bangladesh

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আজ চার্জশিট জমা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই দ্রুত বিচার

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিচার প্রতিবেদকজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট আজ ৭ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে চার্জশিট চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।চার্জশিট আজই জমা: স্বরাষ্ট্র সচিবসোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাআল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।”স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশ্বাস: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই বিচারঅন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আগে বলেছিলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।আসিয়া হত্যাকাণ্ডের মডেল অনুসরণপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মামলার চার্জশিট যথাযথভাবে দাখিল করা হবে। তার আশা, ৭ জানুয়ারির পর চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা যাবে।তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, আসিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সরকার এবারও শক্ত ও নির্ভুল চার্জশিট দিতে চায়, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর না থাকে।আইজিপির নিশ্চয়তাপুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছিলেন যে মামলার চার্জশিট ৭ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।১২ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান এই জুলাই অভ্যুত্থানের আইকন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ শয়নওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনার পর সংসদ ভবনে রাখা হয়েছিল জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিঅস্ত্র উদ্ধারর‍্যাব সদস্যরা নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়ার বিল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। এই সূত্র ধরেই মূল আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে দুই প্রধান আসামি সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জবানবন্দি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।ওসমান হাদি: জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক২৭ বছর বয়সী শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার সাহসী ভূমিকা ও বজ্রকণ্ঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য তাকে যুব সমাজের প্রিয় নেতায় পরিণত করেছিল।আগস্ট ২০২৫-এ তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।শাহবাগ অবরোধ অব্যাহতওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা করেছে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।শাহবাগ মোড়ে প্রতিদিন হাজারো তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন ন্যায়বিচারের দাবিতে। তাদের শ্লোগান: “হাদি ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।”চার্জশিটে কী থাকবে?সূত্র জানিয়েছে, চার্জশিটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:১. অপরাধের বিবরণ: হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ২. আসামিদের তালিকা: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব জড়িতদের নাম৩. ব্যবহৃত অস্ত্র: উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক রিপোর্ট৪. সাক্ষী বিবরণী: প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি৫. ভিডিও প্রমাণ: সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল এভিডেন্স৬. মোবাইল ফোন রেকর্ড: যোগাযোগের প্রমাণ৭. ষড়যন্ত্রের বিবরণ: পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিতদ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারআইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগে ঘোষণা করেছিলেন যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এই ধরনের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।রাজনৈতিক প্রভাবওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তার মৃত্যুতে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে তার অনুপস্থিতি ঢাকা-৮ আসনে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেকে বলছেন, তিনি জীবিত থাকলে এই আসন থেকে জিততেন।জনগণের প্রতিক্রিয়াসামাজিক মাধ্যমে ওসমান হাদির ন্যায়বিচারের দাবিতে হাজার হাজার পোস্ট করা হচ্ছে। #JusticeForHadi হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, “হাদি ভাই আমাদের আদর্শ। তার খুনিদের অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”আন্তর্জাতিক দৃষ্টিওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও স্থান পেয়েছে। বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই ঘটনা প্রকাশ করেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছে।উপসংহারওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আজ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় তদন্ত এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদের আত্মা শান্তি পাক এবং তার খুনিরা যথাযথ শাস্তি পাক – এটাই এখন সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।

খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তান কূটনীতি

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্কখালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় হ্যান্ডশেক করেছেন। মে ২০২৫ সালে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।বাংলাদেশ সংসদে ঐতিহাসিক মুহূর্তবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের একটি অপেক্ষা কক্ষে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর হেঁটে আয়াজ সাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং হ্যান্ডশেক করেন।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লেখেন, “পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।”আয়াজ সাদিকের বর্ণনাপাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বুধবার রাতে সাদিক এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে বলেন, “তিনি আমার কাছে হেঁটে এসে হ্যালো বললেন, যখন আমি দাঁড়ালাম, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এবং হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘মাননীয়, আমি জানি আপনি কে এবং পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'”সাদিক আরও জানান, জয়শঙ্কর প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারপর তার কাছে আসেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্কর জানতেন যে ক্যামেরা রয়েছে এবং তার আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল।পাকিস্তানের প্রেস বিবৃতিপাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সচিবালয় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করেন। এই মিথস্ক্রিয়ার সময়, ডা. এস জয়শঙ্কর স্পিকারের কাছে নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন যে তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, পাহালগাম হামলার পর থেকে পাকিস্তান ক্রমাগত সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়ে আসছে, যার মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং কথিত মিথ্যা ফ্ল্যাগ পাহালগাম ঘটনার যৌথ তদন্তের প্রস্তাবও রয়েছে।ভারতের প্রতিক্রিয়া: “শুধু সৌজন্য”ভারতীয় কর্মকর্তারা এই সাক্ষাতকে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছিল একটি শোক অনুষ্ঠানে সাধারণ শিষ্টাচার।ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই সাধারণ সৌজন্যকে অতিরঞ্জিত করে কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারত জানিয়েছে যে এই সাক্ষাতের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব নেই।ভারত বলেছে, একটি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মোড় দেওয়া অনুচিত। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সংলাপের কথা বলে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন।

মে ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যা অপারেশন সিন্দুর নামে পরিচিত।এই ঘটনার পর থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে অপরের সাথে প্রকাশ্যে হ্যান্ডশেক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুষ্ঠানেও তারা পরস্পরকে এড়িয়ে চলতেন।ক্রিকেট কূটনীতিও ব্যর্থরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের পুরুষ, মহিলা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান দলও ভারতে খেলতে অস্বীকার করে।এই পটভূমিতে জয়শঙ্করের হ্যান্ডশেক অনেকের কাছে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাকিস্তানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াপাকিস্তানি বিশ্লেষকরা এই সাক্ষাতকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সায়েদ আল জাজিরাকে বলেছেন, “জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া নতুন বছরের জন্য একটি স্বাগতযোগ্য উন্নয়ন বলে মনে করি।”তিনি বলেন, “সম্পর্কের মৌলিক স্বাভাবিকতা যেখানে কর্মকর্তাদের সম্মান দেওয়া হয় এবং হ্যান্ডশেক করা হয়, এটি ন্যূনতম যা দুর্ভাগ্যবশত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল।”পাকিস্তানি গণমাধ্যম এই হ্যান্ডশেককে ভারত-পাকিস্তান সংলাপের একটি ভালো সূচক হিসেবে তুলে ধরেছে।ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়াভারতীয় ভাষ্যকাররা এই মিথস্ক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। কেউ কেউ মনে করেন এটি পাকিস্তানকে ভুল সংকেত দিতে পারে। তবে অনেকেই একমত যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহতএই হ্যান্ডশেকের পাশাপাশি, নিয়মিত আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে পারমাণবিক স্থাপনা এবং বন্দীদের তালিকা প্রদান করেছে, যা একটি প্রচলিত কূটনৈতিক অনুশীলন।২০২৬ সালে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা?বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্যান্ডশেক সম্ভবত তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক অগ্রগতি আনবে না, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে হিমায়িত সম্পর্কে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত দিতে পারে।যদিও দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত রয়েছে – কাশ্মীর সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ, এবং সীমান্ত সংঘর্ষ – তবুও মৌলিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার পুনর্নির্মাণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।বাংলাদেশের ভূমিকাখালেদা জিয়ার জানাজা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ প্রদান করেছে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা মিলিত হতে পেরেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ছবি প্রকাশ করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের ভূমিকা তুলে ধরেছে।মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রচারে আগ্রহী, এবং এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির আশাদক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তান শান্তি চান। একটি ছোট হ্যান্ডশেক হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পরিবর্তন করবে না, তবে এটি দেখায় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?এখন প্রশ্ন হলো, এই হ্যান্ডশেকের পরবর্তী কী হবে? দুই দেশ কি আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করবে? নাকি এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হতে পারে। তবে এই ধরনের ছোট কূটনৈতিক আচরণ ভবিষ্যতে বড় সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।উপসংহারঢাকায় জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের হ্যান্ডশেক ২০২৬ সালের শুরুতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে সবচেয়ে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে পারে।দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হ্যান্ডশেক হয়তো একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু কখনও কখনও দীর্ঘ যাত্রা ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়।