Tag Archives: #JabaraNews24

মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান: নতুন কার্যক্রমের প্রভাব

মিনেসোটা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযান হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ICE ও ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে যখন হোয়াইট হাউস থেকে নতুন করে একজন বিশেষ সমন্বয়ক—যাকে প্রশাসন ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে—তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।ফেডারেল নির্দেশনার পর অভিযান তীব্রহোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মিনেসোটাকে “উচ্চ অগ্রাধিকার অঞ্চল” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ফেডারেল টিম মোতায়েন করা হয়।মিনেসোটার গভর্নর ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর অভিযান আরও গতিশীল হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফেডারেল নির্দেশনা আসার পরই অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সমন্বয়ে কাজ করছে।”নতুন ‘বর্ডার জার’–এর দায়িত্ব কী?নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই সমন্বয়ক মূলত তিনটি বিষয়ে নজর দেবেন—- সীমান্ত-সংক্রান্ত ফেডারেল নীতিমালা বাস্তবায়ন – অভিবাসনবিষয়ক অভিযান সমন্বয় – রাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ জোরদার ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই এই পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।”স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগমিনেসোটার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে লাতিনো ও আফ্রিকান কমিউনিটির মধ্যে ভয় আরও বেশি।সেন্ট পলের এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে হঠাৎ গাড়ির সাইরেন শুনলেই মনে হয় অভিযান শুরু হয়েছে। বাচ্চারাও ভয় পাচ্ছে।”স্থানীয় অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিযান বাড়ার ফলে অনেকেই কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন।আইনি সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে ভিড়অভিযান বাড়ার পর মিনেসোটার বিভিন্ন আইনি সহায়তা কেন্দ্রে অভিবাসীদের ভিড় বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের নথিপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে ছুটছেন।একজন আইনজীবী জানান, “গত তিন দিনে আমাদের কাছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ এসেছে। সবাই জানতে চাইছেন—তাদের ঝুঁকি আছে কি না।”রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছেঅভিযানকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল বলছে, “রাজ্যকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, “আইন মেনে থাকা মানুষদের চিন্তার কিছু নেই।”অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর চাপ বাড়লে—- কৃষি – নির্মাণ – রেস্টুরেন্ট – পরিবহন এই চার খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।একজন ব্যবসায়ী বলেন, “যদি শ্রমিকরা কাজে না আসে, তাহলে উৎপাদন কমে যাবে। এতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ মিনেসোটায় আরও অভিযান দেখা যেতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, “অভিযান যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে পরিচালিত হয়।”—উপসংহারমিনেসোটায় ফেডারেল অভিযান ও নতুন ‘বর্ডার জার’ নিয়োগ—দুটি বিষয়ই রাজ্যের অভিবাসী কমিউনিটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে ফেডারেল নীতিমালার পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার ওপর।

_______________________________________________________________________________

Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার
যোগাযোগ:
📧 Email: info@jabaranews24.com
🌐 Website: www.jabaranews24.com
📱 Facebook: facebook.com/jabaranews24
📸 Instagram: instagram.com/jabaranews24
🐦 Twitter: twitter.com/jabaranews24
📺 YouTube: youtube.com/@jabaranews24
**আমাদের অনুসরণ করুন সব সোশ্যাল মিডিয়ায়: @jabaranews

বাংলাদেশ–ICC উত্তেজনা চরমে: নিরাপত্তা পরিকল্পনা অগ্রগতি

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকআইসিসি (ICC) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে বড় ধরণের অগ্রগতি হয়েছে। দেশে আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও প্রমাণাদি জমা দিয়েছে বিসিবি। বাংলাদেশের মাটিতে খেলা আয়োজন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তা দূর হবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।আইসিসির উদ্বেগ ও বিসিবির জবাবসম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আইসিসি বাংলাদেশে নির্ধারিত টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আইসিসির পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদন চাওয়া হলে বিসিবি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ একটি নিরাপত্তা ‘ডসিয়ার’ বা প্রমাণপত্র জমা দেয়।নিরাপত্তা প্রতিবেদনে যা আছেবিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আইসিসিকে দেওয়া প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:ভিভিআইপি প্রোটোকল: খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাতায়াতে ভিভিআইপি পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।যৌথ বাহিনীর টহল: স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত বাহিনীর নজরদারি রাখা।নিরাপদ ভেন্যু: মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম ও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সিসিটিভি কাভারেজের প্রমাণাদি।অতীত অভিজ্ঞতা: এর আগে সফলভাবে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের রেকর্ড ও বিদেশি দলগুলোর সন্তুষ্টির রিপোর্ট।ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্যবিসিবির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাবারা নিউজ ২৪-কে জানান, “আমরা আইসিসিকে আশ্বস্ত করেছি যে বাংলাদেশ যেকোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের। আশা করছি, আইসিসি আমাদের প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবে।”আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপবিসিবির জমা দেওয়া নথিপত্র এখন আইসিসির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দল (Security Team) পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে তারা আবার সরেজমিনে ভেন্যু পরিদর্শন করতে বাংলাদেশে আসতে পারেন। তাদের সবুজ সংকেত পেলেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।ভক্ত ও দর্শকদের প্রতিক্রিয়াবাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা বিরাজ করছে। তারা চান দেশের মাটিতেই খেলা হোক। মিরপুর এলাকায় এক ক্রিকেট অনুরাগী বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ। বিসিবি যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তাতে আমরা আশাবাদী যে খেলা ওপারেই (মাঠেই) হবে।”উপসংহারবিসিবির এই তড়িৎ পদক্ষেপ আইসিসির সাথে উত্তেজনা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। আইসিসি যদি এই প্রমাণাদিতে সন্তুষ্ট হয়, তবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবার বিশ্ব ক্রিকেটের মিলনমেলা শুরু হবে। জাবারা নিউজ ২৪ এই ইস্যুর প্রতিটি খবরের ওপর কড়া নজর রাখছে।

________________________________________________

Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকারযোগাযোগ:📧 Email: info@jabaranews24.com🌐 Website: http://www.jabaranews24.com📱 Facebook: facebook.com/jabaranews24

সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা: দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান, গ্রেপ্তার আরও অনেকে

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানপুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।নতুন গ্রেপ্তার: গত রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলা থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া: সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। জড়িতরা যে দলের বা মতেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।উপদ্রুত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাসহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি বেশ কিছু স্পর্শকাতর স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।টহল জোরদার: বিশেষ করে রাতে ও ভোরে মন্দির এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাড়াগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে যৌথ বাহিনী।আস্থার সংকট দূর: জেলা প্রশাসকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সাহস জোগাতে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করছেন।প্রশাসনের হুঁশিয়ারিপুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাবারা নিউজ ২৪-কে জানান, “যারা পর্দার আড়ালে থেকে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও শান্তি কমিটিসহিংসতা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ এই গণগ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন। অনেক এলাকায় স্থানীয় যুবক ও মুরুব্বিদের নিয়ে ‘সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যারা নিজ উদ্যোগে পাড়া-মহল্লায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্যমানবাধিকার সংগঠনগুলো গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তারা জোর দিচ্ছেন স্বচ্ছ তদন্তের ওপর। তাদের মতে, প্রকৃত দোষীরা যাতে শাস্তির আওতায় আসে এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।গুজব প্রতিরোধের ডাকপ্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও অনুরোধ করা হয়েছে, কেউ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কোনো ছবি বা ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হন। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উপসংহারসংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য সামাজিক ঐক্যের বিকল্প নেই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এই অস্থিরতা চিরতরে বন্ধ করতে। Jabara News 24 এই অভিযানের প্রতিটি খবরের ওপর কড়া নজর রাখছে।

_______________________________________________________________________

Jabara News 24 – সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার

যোগাযোগ:

📧 Email: info@jabaranews24.com

🌐 Website: www.jabaranews24.com

📱 Facebook: facebook.com/jabaranews24

সরকারের কঠোর নির্দেশনা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর বন্ধে

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো রোধে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক ইস্যু এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহসরকারের জারি করা নতুন নির্দেশনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:তড়িৎ ব্যবস্থা: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স বা টিকটক) উসকানিমূলক বা অসত্য তথ্য প্রচার করে, তবে সেই অ্যাকাউন্ট বা পেজ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হবে।শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা: কেবল ভুয়া খবর তৈরি করাই নয়, বরং যাচাই না করে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।মনিটরিং সেল: গুজব শনাক্ত করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বিশেষ ‘সাইবার মনিটরিং সেল’। প্রতিটি জেলার ডিবি ও সাইবার ইউনিটকে এ বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিসরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হবে। কোনো ধরণের উসকানি বা গুজব ধরা পড়লে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।বিটিআরসির ভূমিকাবাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) জানিয়েছে, তারা ফেসবুক ও মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কন্টেন্ট বা লিঙ্ক দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে।কেন এই জরুরি নির্দেশনা?তথ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে এডিট করা ছবি ও পুরোনো ভিডিও নতুন বলে প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।সচেতন হওয়ার আহ্বানতথ্য প্রতিমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু অপতথ্য বা গুজব কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতা নয়। সাধারণ মানুষকে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”গুজব শনাক্ত করার উপায়জাবারা নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে পাঠকদের জন্য কিছু টিপস:লিঙ্ক যাচাই: যেকোনো চাঞ্চল্যকর নিউজের লিঙ্কটি বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টালের কি না তা চেক করুন।ছবির সত্যতা: পুরোনো বা এডিট করা ছবি কি না তা বুঝতে রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্য নিন।অফিসিয়াল সোর্স: সরকারি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড পেজের তথ্য অনুসরণ করুন।উপসংহারইন্টারনেটের এই যুগে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও নাগরিক দায়িত্ব। সরকারের এই নতুন নির্দেশনা গুজব সন্ত্রাস বন্ধে কতোটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত দায়িত্বশীলতার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকদ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাঝেই এবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকদের মনে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কেন এই মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা?জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।ভর্তুকির চাপ: আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাত থেকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।উৎপাদন খরচ: আমদানিকৃত এলএনজি (LNG) এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।কত বাড়তে পারে দাম?যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে:বিদ্যুৎ: খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।গ্যাস: বিশেষ করে শিল্প-কারখানা এবং বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আবাসিক চুলায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিপাকে শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকবিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন খাতে। শিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার ফলে বাজারে আবার দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।রাজধানীর এক গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, “এমনিতেই চাল-ডাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছি, তার ওপর যদি বিদ্যুৎ আর গ্যাসের বিল বাড়ে, তবে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”বিইআরসি ও সরকারের অবস্থানবাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পেলে গণশুনানি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুট করে দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমানো এবং অপচয় রোধে কঠোর হওয়া উচিত।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগজ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস কাজে লাগিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো দরকার।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন দাম কবে থেকে কার্যকর হতে পারে। Jabara News 24 এই বিষয়ে প্রতিটি মুহূর্তের খবরের ওপর নজর রাখছে।উপসংহারবিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হলে সেটি দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চেয়ে আছেন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা: গভীর উদ্বেগ, নিরাপত্তার দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদক

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটা এসব সহিংসতায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতার বর্তমান চিত্র
দেশের একাধিক জেলা থেকে গত কয়েক দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
প্রাণহানি ও জখম: কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা
দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহিংসতার শিকার উল্লেখযোগ্য এলাকা
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন ১০টি জেলা হলো:
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
পিরোজপুর
বাগেরহাট
যশোর
চট্টগ্রাম
পটুয়াখালী
সিরাজগঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাতক্ষীরা
জনমনে আতঙ্ক ও স্থবিরতা
সহিংসতার প্রভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
বাগেরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, “সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হওয়ার মতো ভয় আমাদের ঘিরে ধরেছে।”
দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “লুটপাটের ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি আজ নষ্ট হওয়ার পথে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যে দলের বা যে ধর্মেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তি কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।
জরুরি নিরাপত্তা টিপস
সংকটকালীন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
প্রশাসনকে জানানো: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
গুজব এড়িয়ে চলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক খবরে কান দেবেন না।
একতাবদ্ধ থাকা: পাড়া বা এলাকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে পাহারা জোরদার করুন।
উপসংহার
সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। Jabara News 24-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে ফিরবে।

রাজশাহীতে তীব্র শীতের প্রভাব: তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে

রাজশাহী, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিশেষ প্রতিবেদকউত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে রাজশাহীসহ দেশের ১০ জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।মৌসুমের রেকর্ড ভাঙলআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে।রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, “আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম।”১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহআজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) যে ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে:রাজশাহী – ৭ ডিগ্রি (সর্বনিম্ন)পাবনাবগুড়াদিনাজপুরনীলফামারীপঞ্চগড়রাঙামাটিযশোরকুষ্টিয়াচুয়াডাঙ্গা – ৭.৫ ডিগ্রিচুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, “গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।”স্থবির জনজীবনতীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্করা।রাজশাহী নগরীর রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানান, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। হাত-পা জমে যাচ্ছে। ফলে আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।”দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, “সকালে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঠাণ্ডায় শরীর শক্ত হয়ে আছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”যানবাহন চলাচল ব্যাহতকুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকালেও প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার। ফলে যানবাহন চলাচল ধীর গতিতে হয়েছে।পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফেরি আটকে ছিল।সূর্যের দেখা মেলেনিসোমবার পৌনে ৭টার দিকে সূর্যোদয়ের কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়েছিল পুরো এলাকা।একজন বয়স্ক ব্যক্তি জানান, “এত ঘন কুয়াশা অনেক বছর পর দেখলাম। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”তাপমাত্রার হঠাৎ পতনআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল সাড়ে ৮ ডিগ্রি। এই ব্যবধান কম থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে গেছে। তাই শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, “রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রা বেশি না বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি।”আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবেরাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিশেষ করে ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, “আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।”১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহবাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সতর্ক করেছে যে শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।ঢাকায় শীত বাড়েনিদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা আজ বেড়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।শীতার্তদের জন্য সহায়তাএই তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক জানান, “আমরা শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরম খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”স্বাস্থ্য পরামর্শচিকিৎসকরা শীত থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছেন:ভোরে বাইরে না যাওয়া: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের হবেন নাগরম কাপড় পরা: পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পরিধান করুনগরম পানীয়: গরম চা, স্যুপ বা পানি পান করুনশিশু ও বয়স্কদের যত্ন: বিশেষভাবে শিশু ও বয়স্কদের দিকে খেয়াল রাখুনঘরের ভেতরে থাকা: যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং হৃদরোগীদের সমস্যা বাড়ে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”কৃষি ও গবাদিপশুতে প্রভাবতীব্র শীতে কৃষি ও গবাদিপশুতেও প্রভাব পড়ছে। রবি শস্যে হিমের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন।রাজশাহীর একজন কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “আলু, টমেটো, ফুলকপির ক্ষেতে কুয়াশা জমে গেছে। শীতের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”গবাদিপশুর জন্যও বিশেষ যত্ন নিতে হচ্ছে। পশু চিকিৎসকরা পশুর থাকার জায়গায় খড় বিছিয়ে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবাংলাদেশে সাধারণত জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবারের শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল।উপসংহাররাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আগামী কয়েকদিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আজ চার্জশিট জমা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই দ্রুত বিচার

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 বিচার প্রতিবেদকজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট আজ ৭ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে চার্জশিট চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।চার্জশিট আজই জমা: স্বরাষ্ট্র সচিবসোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাআল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।”স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশ্বাস: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই বিচারঅন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আগে বলেছিলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।আসিয়া হত্যাকাণ্ডের মডেল অনুসরণপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মামলার চার্জশিট যথাযথভাবে দাখিল করা হবে। তার আশা, ৭ জানুয়ারির পর চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা যাবে।তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, আসিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সরকার এবারও শক্ত ও নির্ভুল চার্জশিট দিতে চায়, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর না থাকে।আইজিপির নিশ্চয়তাপুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছিলেন যে মামলার চার্জশিট ৭ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।১২ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান এই জুলাই অভ্যুত্থানের আইকন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ শয়নওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনার পর সংসদ ভবনে রাখা হয়েছিল জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিঅস্ত্র উদ্ধারর‍্যাব সদস্যরা নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়ার বিল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। এই সূত্র ধরেই মূল আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে দুই প্রধান আসামি সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জবানবন্দি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।ওসমান হাদি: জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক২৭ বছর বয়সী শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার সাহসী ভূমিকা ও বজ্রকণ্ঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য তাকে যুব সমাজের প্রিয় নেতায় পরিণত করেছিল।আগস্ট ২০২৫-এ তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।শাহবাগ অবরোধ অব্যাহতওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা করেছে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।শাহবাগ মোড়ে প্রতিদিন হাজারো তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন ন্যায়বিচারের দাবিতে। তাদের শ্লোগান: “হাদি ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।”চার্জশিটে কী থাকবে?সূত্র জানিয়েছে, চার্জশিটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:১. অপরাধের বিবরণ: হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ২. আসামিদের তালিকা: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব জড়িতদের নাম৩. ব্যবহৃত অস্ত্র: উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক রিপোর্ট৪. সাক্ষী বিবরণী: প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি৫. ভিডিও প্রমাণ: সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল এভিডেন্স৬. মোবাইল ফোন রেকর্ড: যোগাযোগের প্রমাণ৭. ষড়যন্ত্রের বিবরণ: পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিতদ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারআইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগে ঘোষণা করেছিলেন যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এই ধরনের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।রাজনৈতিক প্রভাবওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তার মৃত্যুতে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে তার অনুপস্থিতি ঢাকা-৮ আসনে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেকে বলছেন, তিনি জীবিত থাকলে এই আসন থেকে জিততেন।জনগণের প্রতিক্রিয়াসামাজিক মাধ্যমে ওসমান হাদির ন্যায়বিচারের দাবিতে হাজার হাজার পোস্ট করা হচ্ছে। #JusticeForHadi হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, “হাদি ভাই আমাদের আদর্শ। তার খুনিদের অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”আন্তর্জাতিক দৃষ্টিওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও স্থান পেয়েছে। বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই ঘটনা প্রকাশ করেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছে।উপসংহারওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আজ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় তদন্ত এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদের আত্মা শান্তি পাক এবং তার খুনিরা যথাযথ শাস্তি পাক – এটাই এখন সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।

প্রবাসীদের ভোটের নতুন সুযোগ: ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 প্রবাস ডেস্ক
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) চালু করেছে যুগান্তকারী ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করতে পারবেন।
রেকর্ড সাড়া: ১৩ লাখের বেশি নিবন্ধন
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে মোট নিবন্ধন করেছেন ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ২৬ হাজার ২৭৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৩৪ জন। প্রবাসীদের এই ব্যাপক সাড়া নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় সফলতা বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আগ্রহের বিষয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকেও ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৯৯ জন সরকারি চাকরিজীবী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাকি ৭ লাখের বেশি নিবন্ধন এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে।
নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি
প্রবাসীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত করেছে। ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে আরও কয়েক লাখ প্রবাসী নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসির লক্ষ্য রয়েছে আগামী নির্বাচনে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার।
কীভাবে কাজ করবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ?
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি প্রবাসী ভোটারদের জন্য একটি সহজ এবং নিরাপদ ভোটিং সমাধান। নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং নিরাপদ। প্রবাসীদের নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
নিবন্ধন প্রক্রিয়া:
১. প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন
২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর দিয়ে লগইন করুন
৩. আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর প্রদান করুন (বাধ্যতামূলক)
৪. বর্তমান বিদেশি ঠিকানা এবং পাসপোর্ট তথ্য প্রদান করুন
৫. ফেস রিকগনিশন এবং লাইভনেস টেস্ট সম্পন্ন করুন
৬. আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন
ভোট প্রদান প্রক্রিয়া:
নিবন্ধন সফল হলে নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের নির্ধারিত ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠাবে। ভোটার ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে পুনরায় ডাকযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠাবেন।
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ইসির প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে মোবাইল অ্যাপ পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে। অ্যাপে জিও লোকেশন চালু থাকার ফলে বাংলাদেশ থেকে কেউ এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না, যা ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
প্রতিটি প্রবাসীকে অবশ্যই তাদের বর্তমান অবস্থানের আন্তর্জাতিক সিম কার্ড ব্যবহার করতে হবে, যা দ্বৈত ভোট এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক।
১৪৮টি দেশে সক্রিয় অ্যাপ
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি বিশ্বের ১৪৮টি দেশে ব্যবহারযোগ্য। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করছেন তার মধ্যে রয়েছে:
সৌদি আরব
সংযুক্ত আরব আমিরাত
কুয়েত
কাতার
ওমান
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্র
কানাডা
অস্ট্রেলিয়া
মালয়েশিয়া
সিঙ্গাপুর
জাপান
দক্ষিণ কোরিয়া
ইতালি
স্পেন
এছাড়াও আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোতেও অ্যাপটি সক্রিয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রবাসীরা এবার ভোট দিতে পারবেন। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। তাদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এখন তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন।”
ব্যালট পেপার প্রেরণ শুরু
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রবাসী ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে। গত ১২ দিনে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৫ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টিম লিডার সালীম আহমাদ খান।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যালট পৌঁছাতে এবং ভোট প্রদান শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে সর্বনিম্ন ১৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। এজন্য ইসি পর্যাপ্ত সময় রেখে ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু করেছে।
প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী মোহাম্মদ রফিক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন দেশে না গিয়েও আমরা আমাদের প্রিয় প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব।”
লন্ডনের প্রবাসী শাহিনা আক্তার বলেন, “এটি প্রবাসী নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পরিবারের দায়িত্বের কারণে দেশে যেতে পারেন না। এই অ্যাপের মাধ্যমে আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি।”
অন্যান্য সুবিধাভোগী
শুধু প্রবাসীরাই নয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররাও পোস্টাল ভোটের এই সুবিধা নিতে পারবেন।
সরকারি চাকরিজীবীরা তফসিল ঘোষণার পর থেকে নিবন্ধন করতে পারছেন এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তুতি
যদিও এই উদ্যোগ একটি বড় অগ্রগতি, তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডাক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, সময়মত ব্যালট পৌঁছানো এবং ফেরত আসা নিশ্চিত করা একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন কমিশন এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ডাক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় করছে। এছাড়াও প্রতিটি ব্যালটে ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হচ্ছে যাতে প্রবাসীরা তাদের ভোট কোথায় আছে তা জানতে পারেন।
গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ
বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন প্রথমবারের মতো তারা জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের ভোট দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের বহির্বিশ্বের অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
প্রযুক্তিগত সহায়তা
যেসব প্রবাসী অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের জন্য নির্বাচন কমিশন ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সেবা চালু করেছে। এছাড়াও ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ecs.gov.bd), ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত গাইডলাইন এবং টিউটোরিয়াল ভিডিও দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং হাইকমিশনগুলোও প্রবাসীদের সহায়তা প্রদান করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিজয় দিবসের ভাষণে প্রবাসী ভোটারদের ভোটদানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “প্রবাসীরা বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সরকার এই প্রকল্পে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে অনলাইন ইন্টারনেট ভোটিং এবং প্রক্সি ভোটিং ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি প্রবাসীদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং দ্রুততর করবে।
এপ্রিল ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশনে “Devising Viable Method(s) for Diaspora Voting” শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সামাজিক প্রভাব
এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে মাতৃভূমির সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। অনেক প্রবাসী বলছেন, এই ভোটাধিকার তাদের মধ্যে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাপকভাবে এই খবর শেয়ার করছেন এবং একে অপরকে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করছেন।
শেষ মুহূর্তের আবেদন
নির্বাচন কমিশন যেসব প্রবাসী এখনও নিবন্ধন করেননি তাদের ৫ জানুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সকল যোগ্য প্রবাসীর নিবন্ধন করা উচিত।
যারা প্রযুক্তিগত সহায়তা চান তারা নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে যেতে পারেন।
উপসংহার
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
১৩ লাখেরও বেশি প্রবাসীর নিবন্ধন প্রমাণ করে যে তারা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রবাসীরা এখন শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাকারী নন, তারা দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সক্রিয় অংশীদার। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা।
দ্রুত তথ্য
নিবন্ধনের শেষ তারিখ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬
মোট নিবন্ধন: ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৪২২ জন (৪ জানুয়ারি পর্যন্ত)
অ্যাপ নাম: পোস্টাল ভোট বিডি
ওয়েবসাইট: http://www.ecs.gov.bd
সক্রিয় দেশ: ১৪৮টি
ব্যালট প্রেরণ শুরু: ডিসেম্বর ২০২৫
নির্বাচনের তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (প্রথমার্ধ)

খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তান কূটনীতি

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | Jabara News 24 আন্তর্জাতিক ডেস্কখালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় হ্যান্ডশেক করেছেন। মে ২০২৫ সালে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।বাংলাদেশ সংসদে ঐতিহাসিক মুহূর্তবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের একটি অপেক্ষা কক্ষে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর হেঁটে আয়াজ সাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং হ্যান্ডশেক করেন।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লেখেন, “পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।”আয়াজ সাদিকের বর্ণনাপাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বুধবার রাতে সাদিক এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে বলেন, “তিনি আমার কাছে হেঁটে এসে হ্যালো বললেন, যখন আমি দাঁড়ালাম, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এবং হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘মাননীয়, আমি জানি আপনি কে এবং পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'”সাদিক আরও জানান, জয়শঙ্কর প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারপর তার কাছে আসেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্কর জানতেন যে ক্যামেরা রয়েছে এবং তার আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল।পাকিস্তানের প্রেস বিবৃতিপাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সচিবালয় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করেন। এই মিথস্ক্রিয়ার সময়, ডা. এস জয়শঙ্কর স্পিকারের কাছে নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন যে তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, পাহালগাম হামলার পর থেকে পাকিস্তান ক্রমাগত সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়ে আসছে, যার মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং কথিত মিথ্যা ফ্ল্যাগ পাহালগাম ঘটনার যৌথ তদন্তের প্রস্তাবও রয়েছে।ভারতের প্রতিক্রিয়া: “শুধু সৌজন্য”ভারতীয় কর্মকর্তারা এই সাক্ষাতকে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছিল একটি শোক অনুষ্ঠানে সাধারণ শিষ্টাচার।ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই সাধারণ সৌজন্যকে অতিরঞ্জিত করে কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারত জানিয়েছে যে এই সাক্ষাতের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব নেই।ভারত বলেছে, একটি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মোড় দেওয়া অনুচিত। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সংলাপের কথা বলে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন।

মে ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যা অপারেশন সিন্দুর নামে পরিচিত।এই ঘটনার পর থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে অপরের সাথে প্রকাশ্যে হ্যান্ডশেক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুষ্ঠানেও তারা পরস্পরকে এড়িয়ে চলতেন।ক্রিকেট কূটনীতিও ব্যর্থরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের পুরুষ, মহিলা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান দলও ভারতে খেলতে অস্বীকার করে।এই পটভূমিতে জয়শঙ্করের হ্যান্ডশেক অনেকের কাছে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাকিস্তানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াপাকিস্তানি বিশ্লেষকরা এই সাক্ষাতকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সায়েদ আল জাজিরাকে বলেছেন, “জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া নতুন বছরের জন্য একটি স্বাগতযোগ্য উন্নয়ন বলে মনে করি।”তিনি বলেন, “সম্পর্কের মৌলিক স্বাভাবিকতা যেখানে কর্মকর্তাদের সম্মান দেওয়া হয় এবং হ্যান্ডশেক করা হয়, এটি ন্যূনতম যা দুর্ভাগ্যবশত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল।”পাকিস্তানি গণমাধ্যম এই হ্যান্ডশেককে ভারত-পাকিস্তান সংলাপের একটি ভালো সূচক হিসেবে তুলে ধরেছে।ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়াভারতীয় ভাষ্যকাররা এই মিথস্ক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। কেউ কেউ মনে করেন এটি পাকিস্তানকে ভুল সংকেত দিতে পারে। তবে অনেকেই একমত যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহতএই হ্যান্ডশেকের পাশাপাশি, নিয়মিত আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে পারমাণবিক স্থাপনা এবং বন্দীদের তালিকা প্রদান করেছে, যা একটি প্রচলিত কূটনৈতিক অনুশীলন।২০২৬ সালে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা?বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্যান্ডশেক সম্ভবত তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক অগ্রগতি আনবে না, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে হিমায়িত সম্পর্কে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত দিতে পারে।যদিও দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত রয়েছে – কাশ্মীর সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ, এবং সীমান্ত সংঘর্ষ – তবুও মৌলিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার পুনর্নির্মাণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।বাংলাদেশের ভূমিকাখালেদা জিয়ার জানাজা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ প্রদান করেছে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা মিলিত হতে পেরেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ছবি প্রকাশ করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের ভূমিকা তুলে ধরেছে।মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রচারে আগ্রহী, এবং এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির আশাদক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তান শান্তি চান। একটি ছোট হ্যান্ডশেক হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পরিবর্তন করবে না, তবে এটি দেখায় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?এখন প্রশ্ন হলো, এই হ্যান্ডশেকের পরবর্তী কী হবে? দুই দেশ কি আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করবে? নাকি এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হতে পারে। তবে এই ধরনের ছোট কূটনৈতিক আচরণ ভবিষ্যতে বড় সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।উপসংহারঢাকায় জয়শঙ্কর এবং আয়াজ সাদিকের হ্যান্ডশেক ২০২৬ সালের শুরুতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে সবচেয়ে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে পারে।দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হ্যান্ডশেক হয়তো একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু কখনও কখনও দীর্ঘ যাত্রা ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়।